বেড়িবাঁধে বড় ধরনের ফাটল

আনোয়ারার জুঁইদন্ডিতে মৎস্যঘের ও কৃষি জমির চাষাবাদ বিলীনের শঙ্কা, কৃষি ও মৎস্যজীবীরা দুশ্চিন্তায়

এম.নুরুল ইসলাম, আনোয়ারা | শনিবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

সাঙ্গু নদী ভাঙন যেন থামছে না, ভাঙনের ভয়াবহতায় জুঁইদন্ডি ইউনিয়নকে গিলে খাচ্ছে এ নদী। গত ২০ বছরে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এই ইউনিয়নের ১০ হাজারেও বেশি মানুষের বসত বাড়ি ও শত শত একর ফসলের জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়। এই ইউনিয়নের মানচিত্রও অনেক ছোট হয়ে যায়। বর্তমানে ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মাঝের ঘাট এলাকায় এক কিলোমিটারের বেশি বেড়িবাঁধ যেকোনো মুহূর্তে নদী গর্ভে তলিয়ে যাবে। অতি দ্রুত ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে যে কোনো মুহূর্তে নদী গর্ভে তলিয়ে যাবে স্থানীয়দের মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। এলাকাবাসী অতি দ্রুত জিও ব্যাগ বসানোর দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বর্তমানে এই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মাঝের ঘাট এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে বেড়িবাঁধের দুইতৃতীয়াংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। যেটুকু বাঁধ রয়েছে তা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে নদী গর্ভে তলিয়ে যাবে। যার কারণে এখানে স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যজীবীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। অতি দ্রুত বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকার কয়েক কোটি টাকা মৎস্য ঘের ও কৃষি জমির চাষাবাদ বাঁধ ভেঙে নদীর জোয়ারে বিলীন হয়ে যাবে। তাই অতি দ্রুত এই বাঁধের জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। স্থানীয় কৃষক কবির আহমদ বলেন, নদী ভাঙনে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। গত ২০ বছরে আমাদের জুঁইদন্ডি ইউনিয়ন ভাঙতে ভাঙতে অনেক ছোট হয়ে গেছে। এলাকার শত শত লোক বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন অতি দ্রুত যেন বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়া হয়।

জুইদন্ডি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান চৌধুরী খোকা বলেন, বর্তমানে জুঁইদন্ডি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মাঝের ঘাট এলাকার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহের ভাঙনে বেড়িবাঁধের দুইটি অংশ সাঙ্গু নদীতে চলে গেছে। যতটুকু আছে তাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফাটল। পানি উন্নযন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে পুরো বাঁধ বিলীন হয়ে নদী গর্ভে চলে যাবে। যার প্রভাবে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের লক্ষ লক্ষ টাকার মাছের ঘের ও কয়েক শত একর জমির ফসল জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাবে। তাই পানি উন্নযন বোর্ড যেন এ এলাকার ১০ হাজারের বেশি মানুষের জীবন জীবিকার কথা চিন্তা করে অতি দ্রুত বাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ বলেন, বর্তমানে জুঁইদন্ডি ইউনিয়নে ১৫০কোটি টাকা ব্যয়ে ২.৪ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে উক্ত ভাঙন এলাকা আমরা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ বসানোর কাজ শুরু করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্ষজুড়ে উইপোকার আবাস, দেয়াল ও পিলারে ফাটল
পরবর্তী নিবন্ধওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ার প্রবাসীর মৃত্যু