বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে লাল গালিচা সংবর্ধনা সম্পর্কে উষ্ণতার ইঙ্গিত চীনের

আলোচনার কেন্দ্রে বাণিজ্য ও বিরল খনিজ, নজরে ইরানের পরিস্থিতিও

আজাদী ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ at ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

প্রায় এক দশক পর আবারও চীন সফরে গিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, সামরিক গার্ড অব অনার এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনবেইজিং সম্পর্কের নতুন উষ্ণতার ইঙ্গিত মিলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দুই দিনের এ সফরে বাণিজ্য, বিরল খনিজ, কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান পরিস্থিতিসব মিলিয়ে বৈশ্বিক কূটনীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় উঠে আসছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পকে বহনকারী বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বেইজিংয়ে অবতরণ করলে তাকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। বিমানবন্দরে উপস্থিত শিশুকিশোররা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা নেড়ে মান্দারিন ভাষায় ‘স্বাগতম, আন্তরিক স্বাগতম’ স্লোগান দেয়। লাল গালিচা ধরে হাঁটার সময় ট্রাম্পকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। পরে গাড়িবহরে ওঠার আগে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে শুভেচ্ছা জানান তিনি। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরকারি সফরে চীন গেলেন। আগেরবারও সফরকারী ছিলেন ট্রাম্প নিজেই। তবে এবারের সফরে চীনের আচরণ আগের তুলনায় অনেক বেশি আন্তরিক বলে পর্যবেক্ষকদের মত। ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি সেই বার্তাই দিয়েছে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি। তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাপলের টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএঙের ইলন মাস্ক, ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্ক, মেটার ডিনা পাওয়েল ম্যাককর্মিক, ভিসার রায়ান ম্যাকইনার্নি, বোয়িংয়ের কেলি অর্টবার্গ এবং ব্ল্যাকস্টোনের স্টিফেন শোয়ার্জম্যান। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সফরে ডজনখানেকের বেশি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা অংশ নিয়েছেন।

স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতা। সফরের আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি শি জিনপিংকে চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার আহ্বান জানাবেন, যাতে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে কাজের সুযোগ বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের লক্ষ্য শুধু বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের শুল্কসংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা। সয়াবিন, বিমানের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য শিল্পপণ্যের জন্য চীনা বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এ সফরে বিরল খনিজের প্রসঙ্গও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নিওডিমিয়াম ও সামারিয়ামের মতো বিরল খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহে চীনের আধিপত্য রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ড্রোন, স্মার্টফোন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে এসব খনিজ অপরিহার্য। সমপ্রতি চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প এ বিষয়ে বেইজিংকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন।

তাইওয়ান ইস্যুও দুই নেতার আলোচনায় স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ বর্তমানে ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যার কড়া বিরোধিতা করেছে বেইজিং। বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাস ‘তাইওয়ান প্রশ্ন’, ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’, ‘চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা’ এবং ‘উন্নয়ন অধিকার’্তএই চারটি বিষয়ে নিজেদের ‘লাল রেখা’ পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পাশাপাশি ইরান পরিস্থিতিও আলোচনায় আসতে পারে। ওয়াশিংটনের আশা, তেহরানকে নতুন সমঝোতায় আনতে বেইজিং ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, এ বিষয়ে তার কারও সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবু হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা ও ইরানচীন জ্বালানি সম্পর্কের কারণে বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগোপনে ইরানে হামলা চালায় সৌদি আরব
পরবর্তী নিবন্ধদুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু