‘নীল গগনে ছন্নছাড়া মেঘের ভেলা যাওয়া/ পাখপাখালির কিচিরমিচির বক–ডুবুরির নাওয়া/ ভালো লাগে শীত সকালে রসের পিঠা খাওয়া’। পৌষের শীতের এক অদ্ভুত আচ্ছন্নতায় প্রকৃতিপ্রেমীরা বিভোর। আদ্রতাশূন্য কুয়াশাঢাকা ভোরে অপূর্ব গ্রামীণ জনপদ। খেজুর তলায় গাছিদের রসের হাঁড়ি সমাগম। খেজুর রসের পরিচিত ঘ্রাণ। আদিগন্ত মাঠ জুড়ে রঙবেরঙের শাক–সবজি আর সরষে ক্ষেতে হলুদ গালিচার চোখ ধাঁধানো দৃশ্য। সকালের মিঠে রোদ্দুরে উঠোনে বসে পিঠে খাওয়া, পাটালিগুড়, কোঁচড়ভর্তি মুড়ি–মুড়কি আরও কত কী! সন্ধ্যা হলেই শীত নিবারণে খড়কুটোর আগুনে গোলাকার লোকসমাগমে আড্ডা, গান, একে অপরের সাথে কথোপকথন। পাড়ায় পাড়ায় দলবদ্ধভাবে জারি, সারি, কীর্তন–বাউল গানের আসর। শুকিয়ে যাওয়া খাল বিল নদীতে মাছ ধরার উৎসব। বছরের বাকি সময়গুলোতে অবহেলিত লেপ–কম্বলের উত্তাপে নানী দাদীর মুখে শীত বুড়ির গল্প। শীতকালে গ্রামীণ সংস্কৃতিতে বাংলার ঋতু বৈচিত্র্যের এই নয়নাভিরাম চিত্র আমাদের চিরচেনা।
কালের আবহে নগরায়ণের ব্যাপকতা বাংলার শীতকালীন লোকসংস্কৃতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের শীতকালীন লোকসংস্কৃতি। বিকল্প মনোরঞ্জনের উৎস হিসেবে স্থান করে নিচ্ছে উচ্চ তরঙ্গের পাশ্চাত্য সংগীত, মোবাইল গেম, অনলাইন জুয়া, পার্ক বিনোদন। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ শীত মেলা, যাত্রাপালা। এমন বাস্তবতায় প্রকৃতিপ্রেমীদের অভিপ্রায়, আবহ কাল ধরে চলে আসা বাঙালির শীতসংস্কৃতি প্রকৃতি আর লোকারণ্য থেকে যেন হারিয়ে না যায়। শীত আসবে শীত যাবে। নগরায়ণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির আগ্রাসন এড়িয়ে চিরচেনা শীত সংস্কৃতি অনন্তকাল বেঁচে থাকুক এ দেশের মানুষের হৃদয়ে।












