প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই–আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মাঠ পর্যায়ে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না তা সম্পূর্ণ আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) এখতিয়ার।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃক্সখলা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে সেটি আইন ভঙ্গকারী কাজ হবে। সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। এছাড়া তিনি বলেছেন, বাংলার জয়যাত্রার হরমুজ পার হওয়া অনন্য দৃষ্টান্ত। সরকার ১০ জেলায় নতুন রেলপথ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি। খবর বাসসের।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের একান্ত অভিমত উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, তা ক্লিয়ার করে রাখা দরকার। সেটি নির্ধারিত হবে আদালতে। আইসিটিতে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না সেই বিচারের ফলে তা নির্ধারিত হবে। তবে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।
দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এই দলটা এখন যেকোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, তবে তারা একটি আইনভঙ্গকারী কাজ করছে। স্বাভাবিকভাবেই সরকার সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি পালন করার নৈতিক সাহস নেই উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না যে, আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহস আছে। একটা কথা বলে না চোরের মায়ের বড় গলা। জুলাই–আগস্টে মানুষ যেভাবে বন্দুকের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল, কারণ তাদের মন পরিষ্কার ছিল। তারা দেশকে ভালোবেসেছে। কিন্তু কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর–বাটপারদের সেই নৈতিক সাহস থাকে না। তাদের সেই সক্ষমতাও নেই।
ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বড় কিছু করার সক্ষমতা না থাকলেও তাদের কাছে প্রচুর অবৈধ টাকা রয়েছে। সেই টাকা খরচ করে তারা যাতে হঠাৎ কোনো নাশকতা বা সহিংসতা ছড়াতে না পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়া জেলাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। তার মানে এই নয় যে, আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করতে পারবে, সরকার এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে করেছে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনি চেক লিস্ট ও গণতান্ত্রিক পেরিমিটারের ব্যাখ্যা দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক হতে হয়। জুলাইয়ে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, তাতে তারা সংগঠন হিসেবে যুক্ত ছিল কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়। এটা সম্পূর্ণ একটি বিচারিক প্রক্রিয়া। তবে সভ্য দেশের নাগরিক হিসেবে আদালত যে রায় দেবে, আমাদের সবাইকে তা মেনে নিতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু আগামী সেপ্টেম্বর–অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয় বা দলীয় প্রতীক ছাড়া হবে, তাই সেখানে আইনি কোনো বাধা নেই। অতীতে কেউ আওয়ামী লীগ করলেও, তিনি যদি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত না থাকেন বা তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকে, তবে তিনি ব্যক্তি হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু কোনো দলীয় ব্যানার, স্লোগান বা দলীয় কর্মসূচি সামনে আনা যাবে না। অপরাধী হলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।
সেপ্টেম্বর–অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পরপরই, অর্থাৎ আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে শেষ হবে। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভোট হতে পারে। এরপর পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি জানান, দেশের ৬৪টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুরসহ ১০টি জেলায় নতুন রেলপথ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১ আগস্ট থেকে প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্তকরণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা জানান, ২১ জুন পর্যন্ত সরকারি গুদামে রেকর্ড ২১ লাখ ২১ হাজার ৫৯৮ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা নিরাপদ সীমার চেয়ে প্রায় ৭ লাখ টন বেশি।
বাংলার জয়যাত্রার হরমুজ পার হওয়া অনন্য দৃষ্টান্ত : বিডিনিউজ জানায়, ১১৫ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার ঘটনাকে বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন করছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এটি বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসে এক অনন্য ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের দৃষ্টান্ত। সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ–কৌশল এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় বাংলার জয়যাত্রা এক চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।









