পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বান্দরবানে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য জেলার সব পর্যটন স্পট খুলবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসন সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বন্যা পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস এ ঘোষণা দেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বান্দরবানের পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, অতিরিক্ত প্রশাসক মঞ্জরুল হকসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, বন্যার পানি ইতোমধ্যে নেমে গেছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর উজানে বৃষ্টিপাতও কমেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী বৃহস্পতিবার থেকে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বান্দরবানের অর্থনীতি অনেকাংশেই পর্যটননির্ভর। পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দিলে পর্যটকদের আগমন বাড়বে, কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও সচল হবে।
প্রশাসনের তথ্যমতে, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যায় নিরাপত্তা বিবেচনায় গত ৮ জুলাই রাতে দ্বিতীয় দফায় জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর আগে গত ৬ জুলাই জারি করা গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় প্রথমে ১২ জুলাই পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। এ সময় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের ভ্রমণ নিষিদ্ধ ছিল। তবে বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আগামী ১৬ জুলাই থেকে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র পুনরায় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এখানের ব্যবসা বাণিজ্য অনেকটাই পর্যটন নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।










