বাজেটের দুই অধ্যাদেশ আইনে রূপ দেওয়ার অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলা নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ

| বুধবার , ১৮ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা ২০২৪২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৫২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, এদিন বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল তিনটি বিষয়। এর মধ্যে দুটি প্রস্তাব ছিল অর্থ বিভাগের এবং একটি ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

প্রথম প্রস্তাব ছিল ২০২৪২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটসংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ, ২০২৫’কে আইনে পরিণত করা। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী কোনো অর্থবছরে অনুমোদিত বরাদ্দ অপর্যাপ্ত হলে বা কোনো খাতে অনুমোদনের চেয়ে বেশি ব্যয় হলে একটি সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। কিন্তু সংসদ না থাকা অবস্থায় ২০২৫২৬ অর্থবছর শুরুর আগে ২০২৪২৫ অর্থবছরের সেই সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি সংসদে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। সে কারণেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এখন সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা বিল মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

দ্বিতীয় প্রস্তাব ছিল ২০২৫২৬ অর্থবছরের বাজেটসংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ, ২০২৫’কে আইনে রূপ দেওয়া। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, সংবিধানের ৮৭ অনুচ্ছেদে প্রতি অর্থবছরের জন্য বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সংসদে উপস্থাপনের কথা বলা আছে। কিন্তু সংসদ না থাকায় ২০২৫২৬ অর্থবছর শুরুর আগে তা সম্ভব হয়নি। পরে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে প্রস্তুত বিলও মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এগুলো আগে জারি করা অধ্যাদেশকে আইন করার প্রক্রিয়ার অংশ; এখন সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তার ভাষায়, সংসদ না থাকায় যেসব বাজেটীয় ব্যবস্থা অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা হয়েছিল, সেগুলোই এখন আইন আকারে নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্লুরিল্যাটারাল জয়েন্ট স্টেটমেন্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, ওই চুক্তির লক্ষ্য হল বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ সহজ করা। তাতে বাজারে প্রবেশাধিকার বা ‘ইনভেস্টরস্টেট ডিসপিউট সেটেলমেন্ট’ বিষয়ে নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না, বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিও বদলাতে হবে না। সরকারের ভাষ্য, এ চুক্তিতে যোগ দিলে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও জোরালো হবে।

আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও হঠাৎ বন্যার বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল, উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং সিলেটসুনামগঞ্জ এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডে মানুষের কষ্ট লাঘবে কৃষি মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সচিব জানান, ছুটির মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও সহায়তার প্যাকেজ তৈরি করতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদেরও তাদের হাতে থাকা স্থানীয় তহবিল ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কী ধরনের অতিরিক্ত সহায়তা লাগবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধর্ষণ মামলা এবং নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় সমন্বিত বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। এ ধরনের মামলায় একাধিক সংস্থা যুক্ত থাকে। সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সচিব বলেন, উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত বিচারের জন্য যে আদালত ও ব্যবস্থাপনা আছে, সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন করে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ : মাহদী আমিন
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬