ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদে সোলার প্যানেল বসালে উদ্বৃত্ত ইউনিটে টাকা দেবে সরকার

| বুধবার , ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই ব্যবস্থা স্থাপন করলে উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন গ্রাহক। নিজের ব্যবহারের পর জাতীয় গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের জন্য এই দাম পাওয়া যাবে। প্রণোদনার এই ব্যবস্থা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এক প্রজ্ঞাপনে বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, মঙ্গলবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বর্তমান বাজারদর এবং বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়া বিভিন্ন দরপত্রের দাম বিবেচনায় নিয়ে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা ধরা হয়েছে। এই ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করেছে সরকার। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। কোনো গ্রাহক ৮ টাকার কমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে সাশ্রয় করা অর্থ তার লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। খবর বিডিনিউজের।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা২০২৫ অনুযায়ী গ্রাহককে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসাতে হবে জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিজের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে হবে। এজন্য ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ শেষ করতে হবে। ওই সময়ের পরে স্থাপন করা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এই প্রণোদনা মিলবে না। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ করবে। গ্রাহক জাতীয় গ্রিডে কত ইউনিট বিদ্যুৎ দিয়েছেন, সেই হিসাবও রাখবে তারা। প্রণোদনার অর্থ তিন মাস পরপর গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। কোনো অবস্থায় নগদে এই অর্থ দেওয়া যাবে না।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারকে নির্ধারিত কারিগরি মান পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা বিএসটিআই এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা স্রেডা এসব মান নির্ধারণ করবে। বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকে গ্রাহকেরা নীতিগত সহায়তা পাবেন। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়েও এই সহায়তা পাওয়া যাবে।

নেট মিটারিং ব্যবস্থায় কোনো গ্রাহক নিজের স্থাপনায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রথমে নিজে ব্যবহার করেন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিতরণ গ্রিডে যায়। গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের হিসাব গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ ২০১৮ সালে প্রথম নেট মিটারিং নির্দেশিকা করে। বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেটি সংশোধন করে ২০২৫ সালের আগস্টে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়।

স্রেডার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দিকে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির নেটওয়ার্কে ৪ হাজার ৪৯০টির বেশি নেট মিটারযুক্ত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিল। এগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২১৪ মেগাওয়াট। দেশে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে জমির সংকট রয়েছে। এ কারণে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ভবনের অব্যবহৃত ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা২০২৫ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। ২০৪০ সালের লক্ষ্য ৩০ শতাংশ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্দরে এবার বিলাসবহুল চারটি গাড়ি ও যন্ত্রাংশের দুটি চালান আটক
পরবর্তী নিবন্ধবছরে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার কর দিতে হবে না