আদালতের আদেশ অমান্য করে পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায় রাস্তা, সীমানা প্রাচীর ও ঘর নির্মাণ করা হয়। এতে বাধা দিলে শামসুদ্দিন বাদল নামের একজনসহ চারজন মিলে উশৃঙ্খল আচরণসহ মারমুখী আচরণ করেন। এসব উল্লেখ করে বায়েজিদ থানার সহকারী উপ–পরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরই প্রেক্ষিতে আদালত শামসুদ্দিন বাদলসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সমনও ইস্যু করেন।
কিন্তু শামসুদ্দিন বাদলের বক্তব্য হচ্ছে– যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তার অনেক আগে থেকে এখন পর্যন্ত তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবেই রয়েছেন। অথচ তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে ঘটনাস্থলে আবিস্কার করেছেন। আদালত কর্তৃক বাসায় সমন যাওয়ার পরই বিষয়টি তার নজরে পড়েছে। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রবাসে রয়েছেন বলেও জানান শামসুদ্দিন বাদল। এ সংক্রান্ত পাসপোর্ট ও ভিসার কাগজও তিনি প্রতিবেদকের কাছে প্রদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে এএসআই জাহিদুল ইসলাম গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, বাদী ও সাক্ষীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এখানে শামসুদ্দিন বাদলের উপস্থিতির বিষয়টি আসলে অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। তিনি বলেন, আমরা আদালতের কাছে একটি আবেদন করার কথা ভাবছি, যেখানে মামলাটি পুনঃতদন্তের আরজি জানানো হবে।
আদালতসূত্র জানায়, গত ২ আগস্ট মো. আবু সৈয়দ নামের এক ব্যক্তি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (মহানগর) আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে শামসুদ্দিন বাদল, মহিন উদ্দীন, বদরুল আলম রাশেদ ও বাহার উদ্দিনকে বিবাদী করা হয়। আরজিতে বলা হয়, বিবাদীরা তার সম্পত্তি বেখল করার চেষ্টা করছে। এজন্য শাস্তিশৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আদালত শাস্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি আদেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে গত ৪ আগস্ট আবু সৈয়দ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারায় ব্যবস্থা চেয়ে একটি আবেদন করেন। এতে বলা হয়, শাস্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা সংক্রান্ত আদালতের আদেশ অমান্য করে বিবাদীরা নির্মাণ কাজ করছে। এরই প্রেক্ষিতে আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বায়েজিদ থানাকে নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বায়েজিদ থানার এএসআই জাহিদুল ইসলাম তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে গত ২৬ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, নালিশি ভূমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় বিবাদীরা রাস্তা, সীমানা প্রাচীর ও ঘর নির্মাণ করেন। এ তথ্য পেয়ে বাদী ও তার পরিবারের লোকজন সেখানে গেলে বিবাদী তথা শামসুদ্দিন বাদলসহ অপর তিনজন উশৃঙ্খল আচরণসহ মারধর করতে উদ্যত হয়।











