প্রথম শ্রেণির পটিয়া পৌরসভায় চলছে নানা সংকট। এর মধ্যেই পৌরসভায় প্রকৌশলীসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে জনবল সংকট থাকায় উন্নয়ন কাজসহ বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজে দেখা দিয়েছে মারাত্মক স্থবিরতা। চলতি বছর বন্যা ও ভারী বর্ষণ এবং ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে, ভাঙা ও কাটা শতাধিক সড়ক দীর্ঘ ৬–১২ মাস পর্যন্ত মেরামত বা সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিয়মিত।
জানা যায়, সম্প্রতি ২ জন প্রকৌশলী ও একজন নকশাকারক একই সময়ে বদলির কারণে এ সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করে। বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান খন্দকার, উপ–সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান ও নকশাকারক এ এফ আল মামুন। তবে বর্তমানে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী ও মাস খানেক পূর্বে একজন উপ সহকারী প্রকৌশলী যোগদান করলেও তাদের কাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পৌরসভার ঠিকাদার ও পৌর নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে নানা অভিযোগ। পৌরসভার অনেক কর্মকর্তা–কর্মচারীরা মনে করেন, একই সময়ে বদলি হওয়া তিনজন পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বপালন করে আসছিলেন। পৌর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও কাজগুলো তাদের নখদর্পণে ছিল। তাদের একই সময়ে বদলি না করে ধাপে ধাপে শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমে বদলি করা হলে হঠাৎ করে এ সংকটগুলো সৃষ্টি হতো না। অন্যদিকে ওয়াসার সড়ক কাটিং ও বিগত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে মেরামত বিহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় দিনদিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ। এরমধ্যে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ছবুর রোড, ক্লাব রোড, স্টেশন রোড, পোস্ট অফিস মোড়, আদালত রোড, ওয়াপদা রোড, রামকৃষ্ণ মিশন সড়ক, মুন্সেফ বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন সড়ক ওয়াসার পানির সঞ্চালন লাইন নিতে কাটার ফলে সড়কে বড় বড় গর্ত ও মাঝখানের কাটা অংশগুলো দীর্ঘদিন ধরে মেরামত বিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে বিভিন্ন অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষের চলাচলে মারাত্মক বেগ পেতে হয়।
এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার সচিব মোহাম্মদ নেজামুল হক জানান, পৌরসভায় জনবল ও অর্থসংকট রয়েছে। এখানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ ও পদোন্নতি বা পদায়ন করা হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলো স্থানীয়ভাবে এবং পাঁচ সদস্যের একটি নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগে অনেক জনবল সংকট রয়েছে। অর্থাভাবে পৌরসভার অনেক উন্নয়ন কাজ স্তবির হয়ে আছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ।
জানা যায়, পৌরসভায় প্রকৌশল বিভাগে ৫১ জনের মধ্যে বর্তমানে জনবল রয়েছে ৪৭ জন, প্রশাসন বিভাগে ৫৪ জন জনবলের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৩৮ জন এবং স্বাস্থ্য বিভাগে ৩৩ জন জনবলের মধ্যে রয়েছে মাত্র ২ জন। বর্তমানে পৌরসভায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, মেডিকেল অফিসার ও অফিস সহকারীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি রয়েছে। এতে পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজ।
পটিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানুর রহমান জানান, পৌরসভার জন্য একটি ডাম্পিং স্টেশন তৈরির প্রজেক্ট রয়েছে। এ প্রজেক্টে কাজ করতে দুই একর জমি লাগবে। এ জমির দাম বর্তমান বাজার মূল্য সাড়ে তিন কোটি থেকে চার কোটি টাকার মত। পৌরসভা থেকে একসাথে দুই আড়াই কোটি টাকা দেয়া যায়। একসাথে এত টাকা দিতে গেলে পৌরসভার নিয়মিত যে প্রশাসনিক খরচ তা স্থবির হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, বর্তমানে ডাম্পিং স্টেশনের বিষয়ে পটিয়ার এমপি এনামুল হক, চট্টগ্রামের ডিসি ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানেন। বিষয়টি সমাধানে সবাই তৎপর রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার অন্যান্য সমস্যাগুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধান হয়ে যাবে।
অপরদিকে গত বর্ষা মৌসুমে পৌরসভা এলাকার বেশকিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মেরামত করা হলেও টেকসই ও পরিকল্পিত মেরামত না করায় মাস দুই মাসের ব্যবধানে আবারও সড়কগুলোতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মেরামতের নামে সড়কগুলোর টাকা তছরুপ করা হয়েছে। পৌরসভায় পর্যাপ্ত প্রকৌশলীসহ অন্যান্য জনবলের সংকট থাকায় এসব উন্নয়ন কাজ তদারকির অভাবে দায়সারাভাবে করায় অল্পদিনের ব্যবধানে সড়কগুলোর পূর্বের ক্ষতচিহ্ন ভেসে উঠছে। এরমধ্যে পৌরসভার বর্তমানে অন্যতম সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৩৭ বছর পরও একটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ না হওয়াকে সাবেক পৌর মেয়র ও চেয়ারম্যানদের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন পৌরবাসী। তবে সম্প্রতি পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেকোনোভাবেই পৌরসভায় একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।










