কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার পৌরশহরের প্রধান প্রবেশপথে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের পশ্চিম পাশে ভোলাইয়াঘোনা এলাকায় গ্রামীণ ব্যাংক চত্বর সংলগ্ন সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। এতে পচা খাদ্যবস্তু, প্লাস্টিক, পলিথিন, পেকুয়া বাজারের বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন পেকুয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাম্পার ট্রাক, ট্রলি ও ভ্যানে করে এনে ওই স্থানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। তবে নিয়মিত অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় আবর্জনার স্তূপ দিন দিন বড় হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ ও বৃষ্টির কারণে ময়লা পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি মাছি, মশা ও বিভিন্ন রোগজীবাণুর উপদ্রবও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, এটি পৌরশহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ, স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও বিভিন্ন যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেকেই এ সড়ক ব্যবহার করতে অস্বস্তি বোধ করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা দোকানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে চান না। এতে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দোকানগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। পরিবেশের কারণে অনেক ক্রেতা বিকল্প স্থানে কেনাকাটা করছেন বলেও জানান তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৌরসভার কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ায় এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান। বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, জনবসতি ও প্রধান সড়কের পাশে এভাবে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে বৃষ্টির সময় ময়লার তরল অংশ পাশের নালা ও জলাশয়ে মিশে পরিবেশ দূষণ করছে। এতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। দ্রুত আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সড়কের পাশ থেকে জমে থাকা ময়লার স্তূপ অপসারণ, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, পৌরশহরের প্রবেশমুখে এমন নোংরা পরিবেশ শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিই নয়, এটি পেকুয়া পৌরসভার সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও ভাবমূর্তিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।












