কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার এক পল্লী চিকিৎসক নিখোঁজের ২ দিন পার হলেও এখনও তার সন্ধান পাওয়ায় যায়নি। নিখোঁজের পর গভীর রাতে ফেসবুুকে ‘বাঁচান’ লিখে স্ট্যাটাস দেওয়া পরিবারের মাঝে উৎকন্ঠা বাড়ছে। নিখোঁজ মোহাম্মদ আনসার উদ্দিন (৩৫) পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের মাঝেরঘোনা এলাকার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আনসার উদ্দিন গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে চকরিয়ার শেভরন হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি স্ত্রী আঁখি মণির সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন এবং জানান, হাসপাতালের কাজ শেষ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত ৩টার দিকে তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি স্বজনদের নজরে আসে। এরপর থেকেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় আঁখি মণি পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওনার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। এরপর থেকে ওনার ফোন বন্ধ। আমার চারটি ছোট সন্তান রয়েছে। বাবাকে ছাড়া তারা এক মুহূর্তও থাকতে পারে না। গতকাল থেকে তারা না খেয়ে, না ঘুমিয়ে শুধু কান্না করছে। আমি সবার কাছে অনুরোধ করছি, আমার সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও ওনাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।
নিখোঁজ আনসার উদ্দিনের ভগ্নিপতি আবু জার গেফারি বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাইনি। পুরো পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। পেকুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, আনসার উদ্দিন চকরিয়া এলাকায় নিখোঁজ হওয়ায় প্রথমে পরিবারকে চকরিয়া থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে জিডি গ্রহণ না হওয়ায় পরবর্তীতে পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে।












