পুলিশের ওপর হামলার নির্দেশনা!

চন্দনাইশ পৌর নির্বাচন ।। ‘অলির ফোনালাপ ফাঁস’

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের উপর হামলা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, এমন একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। বিভিন্ন মহল দাবি করেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের দুই ব্যক্তির একজন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম এবং অপরজন হচ্ছেন চন্দনাইশ উপজেলা এলডিপি নেতা জসীম উদ্দীন।
অবশ্য এলডিপি’র পক্ষে দাবি করা হয়েছে, ‘কথোপকথনটি সাজানো। এবং কর্নেল অলি আহমদের সাথে জসীম উদ্দিনের কোনো কথা হয় নি।’ এদিকে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ফোনালাপের কোন প্রভাব পড়বে না বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচন। গত ২ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচনে এলডিপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম. আইনুল হককে বিস্ফোরক মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। গতকাল তিনি জামিন পেয়েছেন। ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্র্বাচনে প্রচারণাকালে নৌকা প্রতীক ভাঙচুর, বিস্ফোরণ ও ককটেল উদ্ধার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আইনুলসহ ৩৬ জনকে আসামী করা হয়।
সেই কথোপকথন : ফাঁস হওয়া মুঠোফোনের কল রেকর্ডের শুরুতে একজনকে বলতে শুনা যায়, “চন্দনাইশে, আমি নির্বাচনের তিন-চারদিন আগে যাব।” (দাবি ওঠেছে, কণ্ঠটি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের)।
তখন অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, “জরুরি যেতে হবে। আমি সেখানে সবাইকে বলে দিয়েছি। যদি ডিস্টার্ব করে সেখানে শুধু পুলিশ মারতে বলেছি। সবাইকে বলে দিয়েছি। পুলিশ মারলে ঠিক হবে। সবাইকে বলে দিয়েছি।” ( কণ্ঠটি এলডিপি নেতা জসীম উদ্দিনের বলা হচ্ছে)।
এরপর প্রথম কণ্ঠটি বলে ওঠে, “আচ্ছা ভালো হয়েছে। তুই ভালো আছিস?”
কথোপকথনের বিষয়ে জানার জন্য ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমের মুঠোফোনে গতকাল সন্ধ্যা থেকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এছাড়া এলডিপি নেতা জসীম উদ্দীনের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশের বক্তব্য : চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, কনভার্সেশনে কারা কারা অংশ নিয়েছে সেটা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে। এসপিকে দায়িত্ব দিয়েছি। শনাক্ত হলে আইনগত ব্যবস্থা নিব।
ফাঁস হওয়া কথোপকথনের কোন প্রভাব চন্দনাইশ পৌর নির্বাচনে পড়বে কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোটেই পড়বে না। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য যা যা করা দরকার সব করেছি। আমার সিনিয়র অফিসাররা থাকবেন সেখানে। প্রয়োজনে আমি যাব।
চন্দনাইশ থানার ওসি নাসির উদ্দীন সরকার দৈনিক আজাদীকে বলেন, ফোনালাপের বিষয়টি আমরা জেনেছি। কারা কথা বলেছেন সেটা আমরা ফাইন্ড আউট করার চেষ্টা করছি। কুচক্রী মহল বার বার পুলিশের কাজে বিঘ্ন ঘটানো বা ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। এ কুচক্রী মহলকে আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।
এলডিপি কি বলছে : চন্দনাইশ উপজেলা এলডিপি’র সাধারণ সম্পাদক আকতার আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, কথোপকথনটি ভুয়া। জসীমের কণ্ঠের সাথে ফোনের কণ্ঠের মিল নাই। জসীমের সাথে যার শত্রুতা তারা এ কাজটি করেছে। জসীম এত বড় নেতা হয় নি যে, কর্নেল সাহেবের সাথে এত কথা বলবে। গত তিন-চার বছর ধরে তো জসীমের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগও নাই। যার মোবাইলে এ কথা রেকর্ড হয়েছে তাকে ধরলে আসল কাহিনী জানা যাবে।
কল রেকর্ডে কর্নেল অলির কণ্ঠ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আকতার আলম বলেন, কেউ জোড়াতালি লাগাই দিছে। পুরোটাই ভুয়া। এ বিষয়ে অলি সাহেব আমাদের বলেছেন, জসীমের সঙ্গে কোনো কথাই হয়নি। জসীম এত বড় নেতা না যে এভাবে কথা বলবে। জসীম তো পৌরসভার বাইরের লোক।
এক প্রশ্নের জবাবে আকতার আলম বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কেউ কাজটি করেছে। ষড়যন্ত্র করেছে। কোনো মিছিল-মিটিং করছি না, তারপরও পুলিশ মাঝরাতে বাসায় তল্লাশি করছে। আজকেও আমাদের তিনজন লোককে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের ফাঁসানোর জন্য বিভিন্ন কলাকৌশল হচ্ছে।
আওয়ামীগের বক্তব্য : চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর দৈনিক আজাদীকে বলেন, ফোনালাপের বিষয়ে মানুষের কাছে শুনেছি, অনেকে আমাকে বলেছেন। কিন্তু নিজের কানে শুনিনি। যেহেতু শুনিনি তাই এ বিষয়ে কোন কমেন্ট করা ঠিক হবে না।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭ বস্তা ইয়াবা, ২ বস্তা টাকা
পরবর্তী নিবন্ধনতুন মেয়রের শপথ কাল