পাকিস্তানে আত্মঘাতি গাড়ি বোমা হামলায় ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত

| সোমবার , ১১ মে, ২০২৬ at ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে এক আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর পুলিশ সদস্যদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। পরিস্থিতি সামলাতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয় বলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। খবর বিডিনিউজের।

আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, শনিবার রাতে বান্নুর শহরতলীর পুলিশ পোস্টে হামলার এ ঘটনা ঘটে। গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে স্থাপনাটির ছাদ ধসে পড়ে ও সেখানে থাকা ১৫ পুলিশ সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, বান্নু জেলার ফাতেহ খেল পুলিশ ফাঁড়িতে ওই আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা একটি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে ফাঁড়িটিতে ধাক্কা দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। সাজ্জাদ খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ফাঁড়িটিতে মোট ১৮ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন নিহত ও অপর তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পর সন্ত্রাসীরা ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে ও বিভিন্ন দিক থেকে ফাঁড়িটিতে আক্রমণ চালায়। এরপর থেকে ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কয়েকটি সূত্র ডনকে জানায়, হামলার পর ফাতেহ খেলের ওই পুলিশ ফাঁড়িটি সঙ্গে কিছুক্ষণের জন্য যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শক্তিশালী বিস্ফোরণে ফাঁড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ওই ফাঁড়িতে থাকা একটি সাঁজোয়া যানও ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতার কারণে আশপাশের ভবনগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী সংস্থা ও সরকারি হাসপাতালগুলোর অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ইত্তেহাদউলমুজাহিদীন নামে পরিচিত একটি জঙ্গি জোট হামলার দায় স্বীকার করেছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সন্ত্রাসীরা প্রথমে বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে পুলিশ পোস্টে হামলা চালায়। এরপর জঙ্গিরা ওই ফাঁড়ির প্রাঙ্গণে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। আক্রান্ত পুলিশদের সাহায্য করতে অন্য আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়, কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলায় চালায় আর তাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে, ইঙ্গিত পুতিনের
পরবর্তী নিবন্ধহিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের মতবিনিময় সভা