পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল : সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীলতার পরম্পরা

কানাই দাশ | সোমবার , ১৮ মে, ২০২৬ at ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ

ভেবেছিলাম ইরানে মার্কিন পরাজয়, গাজা লেবাননে মুসলিম নারী শিশু হত্যাকারী মার্কিনিদের বর্বরতা নিয়ে এ দেশের সরকার ও ধর্ম ভিত্তিক বিরোধী পক্ষের নিশ্চুপ ভূমিকা নিয়ে লিখব কিন্তু এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলে এতদিন ধরে নিশ্চুপ ধর্ম ভিত্তিক দলগুলোর ত্বরিৎ প্রতিক্রিয়া নিয়ে সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য কলম ধরতে হলো। উপমহাদেশের তিনটি দেশেই চলেছে মার্কিনী প্রভাবিত চরম দক্ষিণ পন্থার শাসন ও এর ফলে উদ্ভূত সামাজিক সাম্প্রদায়িকতা। তিনদেশের শাসকদল ও শাসক গোষ্ঠীর মূল প্রবণতা হল মার্কিন ঘেঁষা দক্ষিণপন্থা ও লুটেরা নয়া উদারবাদী রাজনৈতিক অর্থনীতির পৃষ্ঠপোষকতা যা ক্রমে স্বাভাবিক গতিতে অর্থনীতিতে ক্লেপ্টোক্র্যাসি বা চোরতন্ত্র এবং রাজনীতিতে জবরদস্তি ও গণতন্ত্রহীনতার পথেই চলে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন মূলত এক চরম উগ্র বাম বিরোধী, নীতিহীন রাজনীতি ও ভোটের জন্য, ক্ষমতার জন্য যা যা করা দরকার ঠিক তাই করা এবং ছদ্ম সাম্প্রদায়িকতার পথে চলা এক বিতর্কিত রাজনীতিবিদ। শুধু এই মমতার জন্য চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া তিস্তা চুক্তি গত ১৫ বছরে স্বাক্ষর হয়নি যা আমাদের উত্তরবঙ্গের প্রচণ্ড ক্ষতি করছে। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বিজেপি শূন্য পশ্চিমবঙ্গে তিনি বিজেপিকে সরাসরি মাঠে নামিয়েছেন। তিনি নিজে ২০০০ সালে আজকের মোদির শাসক এনডিএ জোটের তথা বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন শুধু মাত্র পশ্চিম বঙ্গে ক্ষমতাসীন বামদের মোকাবেলা করার জন্য। তখন তিনি শুধু বাম নয় তীব্র কংগ্রেস বিরোধিতায় নামেন, এনডিএ জোটে না গিয়েও জোটের সুবিধা করে দেয়ার জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে মোদি বিরোধী সর্বভারতীয় ‘ইন্ডিয়া’ জোটে থেকেও সরকার বিরোধী নানা বিষয়ে তিনি অসহযোগিতা করেছেন এমনকি পার্লামেন্টে মোদীবিরোধী ভোটের সময় দলগত ভাবে অনুপস্থিত ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলিমদের শিক্ষা ও বৈষয়িক পশ্চাদপদতা থাকলেও তাদের ’৫০ সালের পর থেকে দেশত্যাগের মত সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থা তথা অব্যাহত ভাবে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে পারার কারণে কেননা এ পর্যন্ত ভারতে ব্যালট ছাড়া ক্ষমতার হাত বদল হয়নি। দেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার অব্যাহত থাকলে তা সাধারণত দুর্বল ও সংখ্যলঘুদের নিরাপদ রাখে। ফলে ১৯৫০ সালে দুই বাংলায় সংঘটিত প্রচণ্ড দাঙ্গার প্রেক্ষিতে ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত নেহেরুলেয়াকত চুক্তির পর দেশত্যাগ করার মত ব্যাপক কোন অপ্রীতিকর সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি পশ্চিম বঙ্গে উদ্ভব হয়নি যে নির্যাতন এদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক ভাবে ’৫০, ’৬৪, ’৭১, ’৯০ এমনকি ২০০১ সালে সেই সময়ের চার জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর পর চলে। ফলে আমরা দেখেছি প্রত্যেকবার সংখ্যালঘুদের ব্যাপকহারে দেশ ত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছরের ধারাবাহিক সেকুলার নির্বাচনী রাজনীতির কারণে সংখ্যালঘুদের অবস্থান মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। বামফ্রন্টের আমলে পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম পর্যায়েও এবং সমাজ মানসে এক অসাম্প্রদায়িক, সামাজিক মনস্তত্ত্ব তৈরি হয়। নানা ইস্যুতে বিশেষ করে বাবরি মসজিদ ইস্যুতে বিজেপি সারা ভারতে যখন সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ছড়িয়ে দেয় ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তায় তখন বামফ্রন্ট ও জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কারণে টু শব্দটি হয়নি। সাংবাদিকদের উত্তরে সেদিন জ্যোতিবসু বলেছিলেন ‘সরকার চাইনি কাজেই এখানে দাঙ্গা হয়নি’। অথচ এদেশে উনাদের চাইতেও মমতাকে নিয়ে মাতামাতি বেশি। এ দেশের ধর্মান্ধ শক্তির অপপ্রচারের প্রেক্ষিতে পরিসংখ্যান দিয়ে দু’দেশের সংখ্যালঘুদের প্রকৃত অবস্থান ও শক্তি বোঝা যায়। দীর্ঘ ৬০ বছরের কংগ্রেস ও বাম শাসনের কারণে ’৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে শতকরা ২০/২১ জন সংখ্যালঘু মুসলিম জনসংখ্যা সংখ্যা বর্তমানে ২৮ শতাংশের মত বেড়ে ভোটের রাজনীতিতে একটি নির্ধারক স্তরে পৌঁছেছে এবং সামাজিক শক্তি হিসাবে প্রতিরোধের ক্ষমতা অর্জন করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের সংখ্যা ’৪৭ সালের ২৬/২৭ শতাংশ থেকে কমতে কমতে বর্তমানে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ’৭১ সালেও ১৮ শতাংশের এর মত ছিল। হারিয়ে যাওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠী কোথায় গেছে তা সবাই জানে। আওয়ামীলীগ বিএনপি বা অন্য কোন দল এই বাস্তবতা নিয়ে কিছু বলে না, ভাবেও না। একটা গোষ্ঠী তো এটাকে পাকিস্তানের মত শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনতে চায়।

বামদের দীর্ঘ শাসনের শেষের দিকে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তার বিলম্বিত উপলব্ধি ও বেকারত্ব, মুসলিম অধ্যুষিত সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে ব্যাপক শিল্পায়নের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্য মমতার সাম্প্রদায়িক ও নানা কৌশলী অপচেষ্টাকে লঘু করে দেখা, পার্টিতে সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ, সর্বোপরি দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছরের শাসনে প্রতিষ্ঠান বিরোধী সাধারণ জনমানস সব মিলিয়ে ২০১১ সালে ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে বামফ্রন্ট পরাজিত হয় ও মমতা ক্ষমতায় চলে আসে। ক্ষমতায় এসে মমতা সিপিএম ও বামদের উপর নজিরবিহীন নির্যাতন, হত্যা, সারা পশ্চিমবঙ্গে বামদের সব অফিস দখল করা বা জ্বালিয়ে দেয়া সহ করে নাই এমন কোন অপকর্ম ছিল না। মমতা নিজে বামদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু বাম নেতৃত্ব বা কোন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির মামলা দিতে পারেনি অথচ কেন্দ্রে কখনো বাম সরকার ছিল না। শত চেষ্টা করেও ক্ষমতাচ্যুতির পর জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেবের সাদা পাঞ্জাবীতে কোন দাগ বসাতে পারেনি। অথচ ক্ষমতায় থেকে মমতার দল নারদ, সারদা, শিক্ষক নিয়োগ সহ একের পর এক দুনীর্তিতে জড়িয়েছে। বেশ কিছু মন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়েছে। রাজনীতির ক্ষেত্রে বামদের অব্যাহত আক্রমণ করেছে এবং প্রায় বাম শূন্য মাঠ বিজেপিকে ছেড়ে দিয়েছে বিশেষ করে ২০১৪ সালে মোদি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পরে। যে কোন কিছুর বিনিময়ে সংখ্যালঘু ভোট একচেটিয়া করার লক্ষ্যে এমন কিছু দৃষ্টিকটূ ও অনৈতিক সুবিধা সমাজের কিছু মাস্তান ও সুবিধা ভোগী মুসলিমদের দিয়েছে যা সাধারণ হিন্দুদের ক্ষুব্ধ করেছে এবং যার প্রতিবাদে ভবিষ্যত বিপদের ও সাম্প্রদায়িকতা উত্থানের আশঙ্কায় বেশ কয়েক বছর আগে পশ্চিম বাংলার প্রগতিশীল সংখ্যালঘু মুসলিম বুদ্ধিজীবীরা মমতার এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে বিবৃতি দিয়েছেন। এলাকায় এলাকায় শাহজাহান শেখদের মত কিছু দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী তৈরি করে সিপিএম এর মুসলিম নেতা ও বাম কর্মীদের এলাকা ছাড়া করেছে। সাধারণ বাম সমর্থকরা নিজেদের বাঁচাতে ব্যাপক ভাবে বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ে, কম হলেও কিছু সুবিধাবাদী শাসক দলে ভিড়ে। এই অবাঞ্চিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে বিজেপি। ‘হিন্দু বাঁচাও বাংলা বাঁচাও’ এই এই সাম্প্রদায়িক শ্লোগান দিয়ে বিজেপি, আরএসএস সারা পশ্চিম বাংলার প্রত্যেক হিন্দু এলাকায় ঘৃণা ও ধর্মান্ধতার ঢেউ তুলে চষে বেড়িয়েছে। দ্রুতই তারা কেন্দ্রের সর্বাত্মক সহযোগিতায় মমতাকে সংখ্যালঘু মৌবাদীদের তোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এই সরাসরি সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও মেরুকরণের মধ্যে বামেরা তাদের ভিত্তি এলাকা হারিয়ে ফেলে। দ্রুতই কংগ্রেস বা বাম নয়, বিজেপি বাংলায় প্রথবারের মত ক্ষমতার বিকল্প হয়ে উঠে, যদিও বামদের সাংগঠনিক কাঠামো অটুট ছিল। মমতার ক্যাডার ও প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপের মধ্যেও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি প্রায় অর্ধেক ১৮টি আসন লাভ করে।

২০২১ সালের বিধান সভা নির্বাচনে বিজেপি প্রায় ৭০ শতাংশের মধ্যে ৩৮ শতাংশ হিন্দু ভোট লাভ করে মমতার ৪৫ শতাংশ ভোটের বিপরীতে। এবার বিজেপি কোমর বেঁধে মাঠে নামে। কথিত ভূয়া ভোটার বাদ দেয়ার অজুহাতে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন, যার বিরুদ্ধে অবিজেপি দলগুলো কিছু করতে বা বলতে পারেনি, তৃণমূলের নির্বাচনী জবরদস্তি বন্ধে প্রায় ৩ লক্ষ কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন, নির্বাচন কমিশনের দ্বারা পুরো প্রশাসনের পুনর্বিন্যাস, মুসলিম ভোট ব্যাংকে বিজেপির সহজ অনুপ্রবেশ, এমনকি মুসলিম অধ্যুষিত ৪৫ শতাংশ আসনে বিজেপির জয় সব মিলিয়ে মমতার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী ছিল। এবার সেই সংখ্যালঘু এলাকা তথা মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস ২টি ও সিপিএম ১ টি আসনে জয় লাভ করে। অর্থাৎ মুসলিম এলাকায় এবার বিজেপি, কংগ্রেস ও বামরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে মমতার পরাজয় নিশ্চিত করেছে।

কিন্তু এই জয়পরাজয়ের পটভূমিতে সাম্প্রদায়িকতা ও লুটেরা অর্থনীতিই মূল ভূমিকা পালন করেছে। ভোটের জন্য মমতার ছদ্মবেশী সাম্প্রদায়িকতা, তোষণ এর বিপরীতে অতীতে মমতার প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠা চরম সাম্প্রদায়িক সংখ্যালঘু মৌলবাদ, বিজেপিআরএসএস এর যৌথ হিন্দুত্ববাদী কর্মকাণ্ড ২০১১ সাল পর্যন্ত টিকে থাকা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত প্রগতিশীল বিশাল হিন্দু মধ্যবিত্তের উদার নৈতিক প্রগতিশীল ও সেকুলার সমাজ মানসকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। ফলে সমাজে অনৈতিকতা অপসংস্কৃতি, জবরদস্তি সর্বোপরি সাম্প্রদায়িক ঘৃণা বিদ্বেষ অভূতপূর্ব ভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। পশ্চিমবঙ্গে অপ্রচলিত উত্তর ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতি ‘জয়শ্রী রাম’ শ্লোগানের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় পরিচয়কে মুখ্য বিষয় করে হিন্দি বলয়ের ভাষা ও ধর্মীয় সংস্কৃতিকে চাপিয়ে দেবার চেষ্টা চলেছে বছরের পর বছর ধরে। এর দায় ৩৫ বছরের শাসক দল সিপিএম এড়াতে পারে না কেননা তাঁরা সমাজ মানসের ধর্ম নিরপেক্ষ ইহজাগতিক পরিবর্তন তথা সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের অবশ্য কর্তব্য সাধনে কোন সময় তৎপর ছিল না। এর সুযোগ নিয়ে বিজেপি ধর্মীয় অপসংস্কৃতিকে সহজেই সমাজে প্রতিষ্ঠা করে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পেরেছে। এজন্য আজ হেমন্তসলিলহেমাঙ্গ বিশ্বাসদের বাংলা, সত্যজিতমৃণালঋত্বিক ঘটকদের বাংলায় হিন্দি ও হিন্দু সংস্কৃতির জয়গান চলেছে। মোদিঅমিতদের জন্য এটাই ছিল সুযোগ। সেই সুযোগ ব্যবহার করে তারা বঙ্গ বিজয় করেছে। পাশাপাশি এর প্রতিক্রিয়ায় তা আরো শক্তি অর্জনের রসদ ও সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে এপার বাংলার তাদের সমগোত্রীয় মৌলবাদকে।

বছরের পর বছর ধরে মমতা বামপন্থী নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে দেয়নি। এর পরেও বামফ্রন্ট মাঠে মাটি কামড়ে পড়েছিল। আজ পরিবর্তিত রাজনৈতিক শক্তি বিন্যাসে বামরা অবশ্যই মাঠে নামবে। ইতোমধ্যে তারা অফিসগুলো পুনর্দখল করেছে। আগামীতে বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি একমাত্র বামরাই রক্ত দিয়ে প্রতিরোধ করবে। ভোটের জন্য বিজেপির অনুপ্রবেশের ফাঁকা রাজনীতি টিকবে না কারণ অনুপ্রবেশ হয়ে থাকলে তা কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা। দুই বাংলার সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এদেশের বাম ও প্রগতিশীল নাগরিক সমাজকেও সচেতন থাকতে হবে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের বামদের ২০১১ সালে চূড়ান্ত ভাবে প্রণীত হয়েও মমতার কারণে বাস্তবায়িত হতে না পারা তিস্তা চুক্তির পক্ষে দাঁড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে জ্যোতি বসুর কারণেই ১৯৯৬ সালে গঙ্গাচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। মমতার জঙ্গীঁ কানেকশন প্রকাশ করে উভয় বাংলায় মমতাকে নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করে, তার প্রকৃত ভণ্ডামি প্রকাশ করে এগিয়ে যেতে হবে। ‘বিজেপিমমতা হঠাও, বাংলা বাঁচাও’ এই স্লোগান নিয়ে, হিন্দি আগ্রাসন থেকে বাঙ্গালির ঐতিহ্য ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার সংগ্রামে বাম কংগ্রেসকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। যার প্রভাব পড়বে এদেশের রাজনীতি ও জনজীবনে।

লেখক: প্রাবন্ধিক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিক্ষা সংশ্লিষ্টরা কেমন আছেন