পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় দুই সন্তানের জননীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

চন্দনাইশ প্রতিনিধি | সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ

চন্দনাইশে পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় দুই সন্তানের জননীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নিহতের নাম মিনহাজ খাতুন (২৪)। গত ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাতে দোহাজারী পৌরসভার হাছনদন্ডি নাসির মাস্টার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় এবং স্বামী জাহেদুল ইসলামকে আটক করে।একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত নিহতের ছোট বোন হাফছা জানান, ৬ বছর পূর্বে নাসির মাস্টার বাড়ির খাইরুল বশরের ছেলে জাহেদুল ইসলামের সাথে তার বড় বোন মিনহাজ খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৩ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এরপরও তার ভগ্নিপতি জাহেদ অন্য নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরকীয়ায় বাধা দিলে জাহেদ প্রায় সময় মিনহাজকে মারধর করতেন। গত শুক্রবার রাতে জাহেদ ওই নারীর সাথে কথা বলার সময় মিনহাজ ফোন কেড়ে নিয়ে ওই নারীর সাথে কথা বলেন। এ নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে গত শনিবার রাতে স্বামী জাহেদ ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিনহাজকে বেধড়ক মারধর করে। রাত ১টার সময় মিনহাজ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জাহেদ জানান এবং ভিডিও কলে হাফসাকে তার বোনের মৃতদেহ দেখান।

মিনহাজের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন মিনহাজ বাথরুমে পড়ে মারা গেছে বলে প্রচার করতে চাপ দেয় এবং একটি আপোষনামাও তৈরি করে বলে জানান হাফছা। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা আবুল ফজল বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। ঘটনার পর মিনহাজের শ্বাশুড়ি নাসিমা আকতারসহ অন্যরা পালিয়ে যায় জানান হাফছা।

চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি এসএম দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, রবিবার সন্ধ্যায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী জাহেদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এজাহার দায়ের হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটেকনাফে ছেলের ছুরিকাঘাতে পিতার মৃত্যু