পণ্য বিক্রি ও রাতে ঘুমানোর জন্য জিইসি মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি : মেয়র

চলতি মাসেই উদ্বোধন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও সরকারি গ্যাজেটে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করেই জিইসি মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এরপর প্রকৌশল ও স্থাপত্যের কারিগরি বিষয় না বুঝে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। মেয়র চলতি মাসেই ফুটওভার ব্রিজটি উদ্বোধন করা হবে জানিয়ে ফুটওভার ব্রিজটির নকশা, প্রস্থ ও নির্মাণকাজ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জিইসি মোড়ে নির্মাণাধীন ফুটওভার ব্রিজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শাহাদাত বলেন, এই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণের কাজ অত্যন্ত কঠিন ও কারিগরি দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং ছিল। এর নকশা ও নির্মাণকাজের সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ছয় থেকে সাতজন প্রকৌশলী এবং তিন থেকে চারজন স্থপতি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে চারদিক থেকে পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজে উঠতে এবং নামতে পারেন। নগরীর ব্যস্ততম একটি মোড়ে পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের বিষয়টি বিবেচনা করেই এর নকশা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ গ্যাজেট এবং ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডে নির্ধারিত মান অনুযায়ী অ্যাক্সেসেবল পাবলিক এক্সেসওয়ে, ফুটপাত, করিডোর ও ব্রিজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রস্থ ১ দশমিক ২ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ জিইসি মোড়ের এই ফুটওভার ব্রিজে আমরা বিভিন্ন স্থানে মাপ অনুযায়ী ১ দশমিক ৩ মিটার এবং ক্লিয়ার স্পেস ১ দশমিক ৪ মিটারও রয়েছে। ব্রিজে ১ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত প্রস্থ রেখেছি। অর্থাৎ নির্ধারিত ন্যূনতম ১ দশমিক ২ মিটারের চেয়ে এখানে বেশি প্রস্থ রাখা হয়েছে।

মেয়র বলেন, এই ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সময় ড্রেন ও ফুটপাত সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। নগরীর বাস্তবতা, পথচারীদের চলাচল এবং বিদ্যমান অবকাঠামো বিবেচনা করেই এর নকশা ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো বিশেষজ্ঞের যদি এ বিষয়ে সংশয় থাকে, তাহলে তারা সরাসরি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কারিগরি বিষয় যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছেন, ফুটওভার ব্রিজটির হাঁটার জায়গার প্রস্থ কম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই–এটি মানুষের হাঁটা ও নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে পণ্য বিক্রি করার জন্য কিংবা রাতে ঘুমানোর জন্য জায়গা তৈরি করা হয়নি। ফুটওভার ব্রিজের ব্যবহার কী উদ্দেশ্যে হবে, সেটি আগে বুঝতে হবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, জিইসি মোড়ের আশপাশে বেশ কয়েকটি স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, রোগী, স্বজন, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা–কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকায় চলাচল করেন। তাদের নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত করার জন্য এই ফুটওভার ব্রিজটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে স্কুল ও হাসপাতালকেন্দ্রিক মানুষের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মেয়র বলেন, নগরে যে কোনো ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেই একটি মহল অনর্থক সমালোচনা শুরু করে। ভিউ ব্যবসার উদ্দেশ্যে যারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, সরকারি গ্যাজেট এবং প্রকৌশলগত মানদণ্ড সম্পর্কে জানতে হবে। আমরা সমালোচনাকে স্বাগত জানাই, তবে তা অবশ্যই তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক হতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে ফুটওভার ব্রিজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে চলতি মাসের ২৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে জিইসি মোড়ের এই ফুটওভার ব্রিজ আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনিউট্রিনো ধরার নতুন পথ দেখিয়ে নোবেলজয়ী হালসেন
পরবর্তী নিবন্ধশিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী