নির্বাচন বয়কটের দিকে এগোচ্ছে একপক্ষ

চট্টগ্রাম চেম্বার

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচন বোর্ড আগামী ২৩ মে শতবর্ষী ব্যবসায়ী সংগঠন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেও একপক্ষ নির্বাচন বয়কটের দিকে এগোচ্ছে। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় থাকা চেম্বারের নির্বাচন আবারো কোনো জটিলতায় পড়তে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন তফসিল ঘোষণা না করায় নির্বাচন করার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল। অপরপক্ষ ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা অভিযোগ খারিজ হয়ে গেছে। তাই ওই ট্রাইব্যুনালের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার নেই। সবকিছু মিলে দুই প্যানেলের পরস্পর বিরোধী অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে তা নিয়ে নির্বাচন বোর্ড নিশ্চিত কিছু বলতে পারছে না। বোর্ড আগামী শনিবার ভোটের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

জানা যায়, চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন কমিশন আগামী ২৩ মে নির্বাচন আয়োজনের নোটিশ প্রদান করেছে। নির্বাচন কমিশন অর্ডিনারি ও এসোসিয়েট গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক পদে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম আগামী ২৩ মে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এই নির্বাচন হবে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ এই নির্বাচনে যোগদানের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে।

নির্বাচন বোর্ডের নোটিশ প্রকাশের পর গত সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর জামালখান এলাকার একটি ক্লাবে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেলের প্রার্থীদের বৈঠক হয়। বৈঠকে প্যানেলের ২২ জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক বলেন, ঈদের আগ দিয়ে অনেক ব্যবসায়ী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব রয়েছেন। এমন সময়ে হুট করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা লংঘন করে পুরনো সিডিউলে নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই আইনসম্মত নয়। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানাব। দাবি না মানা হলে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি প্রহসনের নির্বাচন হবে।

অন্যদিকে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম বলেন, নতুন তফসিল ঘোষণার কোনো সুযোগ নেই। গত ১১ ডিসেম্বর হাই কোর্টের আদেশের ভিত্তিতেই পুরনো তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেল লিডার আমিরুল হক বলেন, আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা অভিযোগ খারিজ হয়ে গেছে। তাই ওই ট্রাইব্যুনালের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তিনি বলেন, হাই কোর্ট যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে সেভাবেই নির্বাচন হবে।

জানা গেছে, টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ ক্যাটাগরি থেকে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেলের ছয়জন পরিচালক প্রার্থী ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। ফলে ২৪টি পরিচালক পদের মধ্যে বাকি ১৮ জন পরিচালক পদে আগামী ২৩ মে ভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের এক প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোটের মাত্র পাঁচ দিন আগে তারিখ ঘোষণা করায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে গেছে। ঈদের আগে তড়িঘড়ি করে ভোট আয়োজনের মাধ্যমে হাই কোর্টে রিট করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে পুরনো তফসিল অনুযায়ী ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেলের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা চলছে। গত বছরের ১ নভেম্বর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও হাই কোর্টে রিট দায়েরের কারণে ভোট স্থগিত হয়। পরে ৪ এপ্রিল পুনরায় ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও আপিল বিভাগের নির্দেশে সেটি আটকে যায়। চেম্বারের সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। এরপর টানা পাঁচ মেয়াদে ভোটাভুটি ছাড়াই পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের ২৪টি পরিচালক পদের মধ্যে অর্ডিনারি ক্যাটাগরি থেকে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট থেকে ৬ জন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৩ জন এবং ট্রেড গ্রুপ থেকে ৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হন।

এদিকে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পক্ষ থেকে গতকাল এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এফবিসিসিআই সালিশি ট্রাইব্যুনালের ২২ এপ্রিল প্রদত্ত রায় অনুযায়ী বাণিজ্য সংগঠন আইন ও বিধির আলোকে নতুন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে চেম্বার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদানে বাণিজ্য সংগঠন মহাপরিচালক বরাবরে ১৮ মে এক পত্রে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিবৃতিদাতারা হলেন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার এস এম নূরুল হক, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, ডা. এটিএম রেজাউল করিম, আহমেদুল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ আইয়ুব, এস এম কামাল উদ্দিন, কাজী ইমরান এফ রহমান, কামরুল হুদা, মো. রফিকুল ইসলাম, মোস্তাক আহমেদ, আহমেদ রশীদ আমু, নুরুল আবছার, মো. আজিজুল হক, মো. রাশেদ আলী, মো. মুসা, মো. আরিফ হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয় থেকে কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধসীতাকুণ্ডে মহাসড়কে আগুন দিয়ে ২ ঘণ্টা ব্যারিকেড, ৩৫ কিলোমিটার যানজট