নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী বিএনপি সরকার এক এক করে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ কাজে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে জনগণই তা রুখে দেবে। জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভ্রান্তকারীদের বিভ্রান্তির ফাঁদে পা দেবেন না। গতকাল শনিবার বিকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের কাজ উদ্বোধনের পর সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে এখন আমরা যখন খাল কাটা শুরু করেছি, আমরা যখন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছি, আমরা যখন কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি, আমরা যখন ইমাম–মোয়াজ্জিন সাহেবদেরকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু করেছি, আমরা যখন বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছি, তখন কিছু সংখ্যক মানুষ কতগুলো বিভ্রান্তিকর কথা বলছে।
১২ তারিখের নির্বাচনে এই দেশের মানুষ সচেতন ছিল বলেই তারা বিএনপির খাল কাটা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণসহ ইমাম–মোয়াজ্জিন সাহেবদের জন্য আমরা যে ব্যবস্থা করেছি সেই সকল কর্মসূচির পক্ষে রায় দিয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
তিনি বলেন, আজকে পরিষ্কারভাবে হাজারো মানুষের সামনে আমি বলে দিতে চাই, আমরা মানুষের পক্ষ থেকে যেই সমর্থন পেয়েছি, আমরা এক এক করে সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।
সরকারপ্রধান বলেন, এই কাজ যদি কেউ বাধাগ্রস্ত করতে চায়, এই কাজ যদি কেউ ভেস্তে দিতে চায়, বাংলাদেশের মানুষ, আমাদের কিছু করা লাগবে না, বাংলাদেশের মানুষই তাদের সেই পরিকল্পনা, তাদের সেই ষড়যন্ত্রকে ভেস্তে দেবে। আসুন, যে কর্মসূচিগুলি বাস্তবায়ন করলে এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে আজকে এই ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননে আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, আমরা সকলে সজাগ থাকব, আমরা সকলে সচেতন থাকব। ওই বিভ্রান্তকারীদের বিভ্রান্তির ফাঁদে আমরা পা দেব না।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন যে কাজগুলোর কথা আপনাদের সামনে বললাম, এগুলো যদি থেমে যায় কার ক্ষতি হবে? যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ক্ষতি হবে নাকি আপনাদের ক্ষতি হবে? সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ক্ষতি হবে। আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে যাতে খাল কাটা কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে যাতে মা–বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি, সেই কর্মসূচিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে কৃষক কার্ড কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছে দেবার যে পরিকল্পনা, সেই পরিকল্পনা যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করেছি, সেগুলো যাতে তারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বাধাগ্রস্ত করতেন না পারে সে ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সামনে উদ্দেশ্য–লক্ষ্য একটাই, এই দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে, এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে এবং সেই কাজ আমরা শুরু করেছি। বিএনপি সকল সময় একটি কথা বলে থাকে, জনগণই হচ্ছে বিএনপির সকল রাজনৈতিক শক্তির উৎস এবং সেই জন্যই জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা এসব কর্মসূচি শুরু করেছি, জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কর্মসূচির কাজ শুরু করেছি। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা কৃষক কার্ডের কাজ শুরু করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যতক্ষণ সমর্থ দেবে আমরা বিএনপি জনগণের জন্য, দেশের জন্য ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব। তার থেকে এক বিন্দু এদিক–ওদিক হবে না।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই : মানুষের উপকার হয় এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আজকে এই খাল কাটা অনুষ্ঠানে আসুন আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, আমাদের শপথ হোক যে, আমরা করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এটাতে আছেন নাকি আমার সাথে দেশ গড়ার কাজে। আসুন আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন; দেশ গড়া, রাষ্ট্র পুনর্গঠন–এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।
গতকাল দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তির খোর্দ্দ খাল পুনঃখননের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই, আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই না; আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে।
খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গে টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খাল পুনঃখননের এই অনুষ্ঠান। আসুন আমরা সকলে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি, কী প্রতিজ্ঞা? সেটা হচ্ছে, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা।
গতকাল ঢাকা থেকে সড়কপথে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন স্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। ফলক উন্মোচনের পরে খালের তীরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন প্রধানমন্ত্রী। পরে খালের তীরে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খোর্দ্দ খাল খনন করেছিলেন। ৪৮ বছর পর সেই খাল পুনঃখনন করলেন তারই ছেলে তারেক রহমান।
কুমিল্লা নামে বিভাগ হবে : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কুমিল্লা’ নামে বিভাগ হবে। কুমিল্লা নামে বিভাগ হওয়াটা যদি এই অঞ্চলের জনগণের দাবি হয়ে থাকে, ইনশাআল্লাহ সেটির বাস্তবায়ন হবে। বিএনপি সরকার জনগণের সব দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণ করবে। একইসঙ্গে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের বিষয়ে শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। গতকাল দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।













