বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক উইকেটের দেখা পেলেন পেসার নাহিদ রানা। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১০ ওভার বল করে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন রানা। এর আগে ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকার করেছিলেন আফতাব আহমেদ ও রুবেল হোসেন। ২০০৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে প্রথম পাঁচ উইকেটের দেখা পান মিডিয়াম পেসার আফতাব। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে কিউইদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১০ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন আফতাব। ঐ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৪৩.৪ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে আফতাবের বিধ্বংসী বোলিংয়ের পরও ৩২ বল বাকী থাকতে ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। এরপর ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ নেন পেসার রুবেল। হ্যাটট্রিকসহ ৫.৫ ওভার বল করে ২৬ রানে ৬ উইকেট নেন রুবেল। তার দুর্দান্ত বোলিং পারফরমেন্সে ২৬৫ রান তুলে বৃষ্টি আইনে ৪৩ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। আফতাব–রুবেলের পর বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় নাম তুলেছেন রানা। ১০ ওভার বল করে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। দশ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মত ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেলেন রানা। তার এ সাফল্যের দিনে বাংলাদেশও ৬ উইকেটে জয়লাভ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। গত মাসে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন রানা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐ ম্যাচের বোলিং ফিগারই রানার ক্যারিয়ার সেরা হয়ে আছে। গত দুই বছর ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির প্রদর্শনী মেলে ধরছেন নাহিদ। বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্রুততম বোলার তিনি। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার ছাড়িয়েছেন বেশ কবার। ১৪৫ কিলোমিটারের আশেপাশে গতিতে বোলিং করেন তো নিয়মিতই। তবে নিজের সেই মানদণ্ডেও তিনি চমকে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের এই দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। তীব্র তাপপ্রবাহে যেখানে মাঠে টিকে থাকাই কঠিন, সেখানে ১০ ওভারজুড়ে গতির ঝড় ধরে রেখেছেন নাহিদ। তার স্রেফ একটি স্লোয়ার ডেলিভারির গতি ছিল ১১২ কিলোমিটার, বাকি সব ডেলিভারি ছিল ১৪০ কিলোমিটারের ওপর। নিজের ফিটনেস নিয়ে নাহিদ বলেন,‘প্রথমত, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ ফিট রেখেছেন। দ্বিতীয় হচ্ছে যে, আমি আমার ফিটনেস নিয়ে যে জিনিসটা, সেটা আমি আমার প্র্যাকটিসের বাইরে কিংবা যখন প্র্যাকটিস চলে তখন ফিটনেস ট্রেইনারের সাথে কাজ করি। তাদের সঙ্গে কথা বলি যে কীভাবে নিজের ফিটনেসটা উন্নত করা যায় কিংবা আরও বাড়ানো যায়, যাতে ম্যাচের সময় মাঠের মধ্যে অনুভব করতে পারি যে আমি বোলিং করছি, কিন্তু কখনও ক্লান্ত হচ্ছি না। এই জিনিসগুলোর জন্য অফ টাইমে যে জিনিসগুলো করতে হয়, জিম বলুন, রানিং কিংবা নিজেকে মেইনটেইন করা–এই জিনিসগুলো ভালোভাবে করার চেষ্টা করি।’ নাহিদ আরো বলেন,‘সবগুলোই উইকেট আমার কাছে স্পেশাল এবং প্রত্যেকটা উইকেটই আমার কাছে ভালো লাগে। উইকেট একজন বোলারের কাছে কম–বেশি থাকে না। আমি দলে ‘ইমপ্যাক্টফুল’ পারফর্ম করতে পারছি, এটার জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আমার কাছে সবগুলো উইকেটই একই মনে হচ্ছে।’













