কর্ণফুলীতে রান্নাঘরের চুলার ধোঁয়া নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে কিরিচের কোপে গুরুতর আহত এক বৃদ্ধ ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. ইব্রাহিম প্রকাশ বুলুন (৬০)। তিনি উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ শিকলবাহা তালতলা এলাকার মৃত ইয়াকুবের ছেলে।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল তালতলা এলাকায় মাওলানা আহছান উল্লাহর বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতের ছেলে মো. তহিদুল ইসলাম আজাদ বাদী হয়ে ২৫ এপ্রিল সাতজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫–৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আলী আজগর (৫০), তার স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম (৪৩), ছেলে আশরাফ আলী (২৫), তারেকুল ইসলাম তুষার (২৭) ও নিশাত (২৮)। এর মধ্যে নিশাত অজ্ঞাত আসামি হওয়ায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। অন্যরা কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইব্রাহিম ও অভিযুক্ত আলী আজগর প্রতিবেশী ছিলেন। পাশাপাশি বসতঘর হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও বসতভিটা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন ইব্রাহিমের রান্নাঘরের চুলার ধোঁয়া প্রতিবেশীর ঘরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কিরিচের আঘাতে বৃদ্ধ ইব্রাহিমের মাথার খুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। ১৪ দিন পর তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে তহিদুল ইসলাম আজাদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার মা গুরুতর আহত। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার চাই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক মো. আশিক হায়দার বাকী বলেন, ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা।












