নারী জাগরণের অগ্রদূত

প্রতিমা দাশ

রবিবার , ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

ব্যক্তিগত জীবনে যিনি ছিলেন শিক্ষাহীন আলোহীন কুসংস্কার ভরা অন্তঃপুরের বন্দী এক নারী। একদিন সেই নারীই সমস্ত অন্ধকারের শেকল ভেঙে হয়ে উঠলেন খোলা আকাশের মহিমান্বিত মহীয়সী তেজস্বী এক নারী স্বাধীনতার নিজস্ব প্রতীক। তিনি আর কেউ নন, রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামের সাধারণ মেয়ে বেগম রোকেয়া। তিনি শুধু নিজেই পড়াশোনা করে ক্ষান্ত হয়নি, তিনি দিয়ে গেছেন সকল বাঙালি নারীর মুক্তির সিঁড়ি। সেই সিঁড়িটি হচ্ছে শিক্ষা। তিনি আমৃত্যু পর্যন্ত নারী শিক্ষার সংগ্রাম করে গেছেন। এই পুরুষ শাসিত সমাজে প্রথম এবং শেষ অবলম্বন হিসেবে বেগম রোকেয়া শিক্ষাকেই গুরুত্ব দিয়ে গেছেন। সমাজের সব বাধা উপেক্ষা করে তিনি নারীদের জন্য স্কুল তৈরী করেন। তিনি প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা বাবাকে অনুরোধ করেন এবং বুঝান তারা যেন তাদের কন্যাকে স্কুলে পাঠায়। স্কুলে শিক্ষায় দীক্ষায় পারদর্শী হয়ে যেন পুত্র সন্তানের ন্যায় সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক। সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে শুরুতে মাত্র তিন জন ছাত্রী নিয়ে করে ফেললেন মেয়েদের স্কুল। সমাজের একা একজন নারী কতোটা সাহসী হলে, ধর্ম সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে এমন সাহসী পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব! তিনি বুঝে ছিলেন, নারীদের শিক্ষা ছাড়া মুক্তি নেই, যেভাবেই হোক নারীদের শিক্ষার বিস্তার করতেই হবে। নারী শিক্ষা নিয়ে তাঁর বিভিন্ন লেখায় পাওয়া যায়, “আমাদের শয়ন কক্ষে যেমন সূর্যালোক প্রবেশ করে না, তদ্রূপ মনোকক্ষেও জ্ঞানের আলোক প্রবেশ করিতে পারে না। পুরুষদের সক্ষমতা লাভের জন্য আমাদিগকে যাহা করিতে হয় তাহাই করিবো। যদি এমন স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হয়, তবে তাহাই করিবো। আবশ্যক হইলে আমরা লেডি কেরানি হইতে আরম্ভ করিয়া ম্যাজিস্ট্রেট, লেডী ব্যারিস্টার, লেডী জজ.. সবই হইব।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই লেখিকা রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর লেখার কতো কী আঙ্গিকে সৃষ্টিকর্ম করে গেছেন, রম্য, কাব্য, নিবন্ধ, গল্প, অনুবাদ উপন্যাস। এইসবের মাঝে তিনি সমাজ কে বার বার একটাই মেসেজ দিয়েছেন তা হলো নারী শিক্ষা। তিনি একাই যুদ্ধ করে গেছেন সমাজের নারীদের মুক্তির পথ দেখানোর জন্য। তিনি নারী জাগরণের উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে সমাজের প্রতিটি নারীকে আলোক বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষণজন্মা এই তেজস্বী নারীর জন্ম আর প্রয়াণ দিবস গেল গত ৯ ডিসেম্বর। এ উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। নারী শিক্ষার অগ্রদূত হয়ে তিনি আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

x