‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়’ থেকে ‘মোদের গরব মোদের আশা’–বাংলা গানের চিরায়ত সুর আর কথার আবেগে সাজানো ছিল সঙ্গীত ভবনের হীরক জয়ন্তী উৎসবের তৃতীয় দিন। অতুলপ্রসাদ থেকে ডি এল রায়, রজনীকান্ত থেকে শুরু করে ভক্তিমূলক সংগীত, পদাবলী ও পুরাতনী সব গানের পরিবেশনায় বাংলা গানের একগুচ্ছ ডালি নিয়ে সাজানো ছিল পুরোটা সঙ্গীত সন্ধ্যা।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ছয় দিনব্যাপী এ উৎসবের তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় সঙ্গীত ভবনের শিক্ষার্থীদের সমবেত পরিবেশনায়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কাবেরী সেনগুপ্তার পরিচালনায় শিল্পীরা পরিবেশন করেন রজনীকান্ত সেনের ‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়’ ও অতুলপ্রসাদ সেনের ‘মোদের গরব মোদের আশা’ গান দুটি দিয়ে।
অনুষ্ঠানের অতিথি একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, গান সুখের দিনেও মানুষের সঙ্গী, দুঃখের দিনেও সঙ্গী। সংগীতের চর্চা ও সংগঠন গড়ে তোলার পেছনে থাকে মানুষের নিজস্ব শ্রম ও চেষ্টা। নবীন শিক্ষার্থীরাই সংগীতচর্চার মধ্য দিয়ে আগামীকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সঙ্গীত ভবনের ছয় দশকের পথচলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতিকে ধরে রেখে সংগীতচর্চার মাধ্যমে মানুষকে সুন্দর ও কল্যাণের পথে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে–এটাই প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে শচীন দেববর্মনের সুরে মোহিনী চৌধুরীর কথায় ‘ঝিলমিল ঝিলমিল ঢেউয়ের জলে’ গানটি পরিবেশন করেন দীপ্ত মল্লিক প্রিয়ম। দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘ভজ কে ভজ রে’ পরিবেশন করেন দেবলীনা সরকার। রজনীকান্তের ‘যেখানে সে দয়াল আমার’ গানটি শোনান লিপি মজুমদার। ডা. লিপিকা নন্দীর কন্ঠে ‘সুখের লাগিয়া বাঁধিনু এ ঘর’ এ পদাবলী এবং সুমিতা সরকারের কন্ঠে রামনিধি গুপ্তের টপ্পা ‘নানান দেশের নানান ভাষা’ ছিল মনোমুগ্ধকর। অনুষ্ঠানে আরো গান পরিবেশন করেন অদ্রিতা ধর, রীনা কর্মকার, অদ্বিতীয়া বড়ুয়া, শ্রেয়া দাস। আমন্ত্রিত সংগঠনের মধ্যে সমবেত সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে রক্তকরবী, স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্স ও স্বরলিপি সাংস্কৃতিক ফোরাম। নাগমার সাথে তবলা লহড়া পরিবেশন করে ক্ল্যাসিক্যাল তবলা স্টুডেন্টস ফোরাম বাংলাদেশ। বৃন্দ পরিবেশন করেন প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, কবি–অধ্যাপক হোসাইন কবির, রবিউল আলম, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, অধ্যাপক সনজীব বড়ুয়া ও মোহাম্মদ ফজল হোসেন। বক্তারা বলেন, সংগীত চর্চার সংগঠন হিসেবে সঙ্গীত ভবন এক এক করে ষাট বছর পার করেছে। শুদ্ধ সংগীত চর্চায় আগামী দিনেও এই সংগঠন একই ভূমিকা পালন করবে– প্রত্যাশা রাখেন বক্তারা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












