নগরীর আগ্রাবাদ হাজীপাড়া, আমবাগান ও বায়েজিদে পাঁচ শিশুকে ‘ধর্ষণচেষ্টা’র ঘটনা ঘটেছে। গতকালের এসব ঘটনায় পুলিশ দুই নিরাপত্তা কর্মী ও এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তাররা হলেন হাজীপাড়া জালালের কালোনি এলাকার নিরাপত্তা প্রহরী মো. এহসান (৪৫), আমবাগানের মোহাম্মদ বাতেন ও মান্ডাটিলা এলাকার নিরাপত্তা প্রহরী মো. হাসান (৪০)।
আগ্রাবাদ হাজীপাড়া : পুলিশ জানায়, ডবলমুরিং থানা এলাকায় ৭ ও ১১ বছরের দুই শিশুকে ডেকে খালি একটি প্লটে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি আশপাশের লোকজন দেখতে পেয়ে অভিযুক্ত মো. এহসানকে (৫৫) ধরে পিটুনি দেয়। এরপর পুলিশ আসামিকে আটক করতে গেলে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এহসানকে পুলিশ হেফাজতে নিতে গেলে কলোনির লোকজন প্রতিবাদ শুরু করে এবং তাকে নিজেদের কাছে রেখে দিতে চায়। পরে পুলিশ লোকজনকে বুঝিয়ে এহসানকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নেয়। এ ঘটনায় এহসানকে আসামি করে এক শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেছেন।
আমবাগান : নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের পাশে ৬ ও ৮ বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মোহাম্মদ বাতেন নামে এক মুয়াজ্জিনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই শিশুর অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবার ও স্থানীয়দের সহায়তায় বাতেন ও দুই শিশুকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে।
খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান আজাদীকে বলেন, দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার সংবাদ শুনে আমি নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিম ও অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসি। ঘটনার বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বায়েজিদ : এদিকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ থানা পুলিশ নিরাপত্তা প্রহরী হাসানকে গ্রেপ্তার করে। বায়েজিদ থানার ওসি আবদুল করিম বলেন, মান্ডাটিলা এলাকাটিতে নিম্ন আয়ের লোকজন বসবাস করে। সেখানকার একটি কলোনির প্রহরী হাসান একটি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর দক্ষিণ বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর সন্দেহভাজন মনির হোসেনকে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার চেষ্টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধরা। সন্ধ্যার পর থেকে থেমে থেমে চলা এ সংঘর্ষের কারণে শাহ আমানত সেতু থেকে বহদ্দারহাট সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। সংঘর্ষে আহত হয় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন।











