দেশ হতে দেশান্তরে

অশ্বশক্তিতে বলীয়ান দিন

সেলিম সোলায়মান | রবিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ

তেজী আরবি ঘোড়ার মতো ছুটছে মরুর দিনগুলো উর্ধশ্বাসে। রোজার ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফেরার পর থেকে পাচ্ছিলাম টের। এখন তো প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে দিনগুলোর অশ্বগতি। এ অবশ্য আচানক ঘটনা নয়। বৈশ্বিক এই কোম্পানির নানা দেশের অপারেশনগুলোর সবখানে এমনটাই ঘটে বছরের শেষদিকে। তথাকথিত প্রথম বিশ্বের এই কোম্পানির হেডকোয়ার্টারে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পর থেকেই শুরু হয় ঝিমুনি। ওখানকার কর্মকর্তারা এসময় একে একে যেতে শুরু করেন ক্রিসমাস আর নতুন বছর উদযাপনের দীর্ঘছুটিতে। যাওয়ার আগে, দিকে দিকে গড়িয়ে দেন নিজেদের হাতের নানান আকারের বল। অক্টোবর না হলেও নভেম্বরেতো অবশ্যই হয় সেই বল গড়ানোর শুরু। এমতাবস্থায় ম্যারাথন রেসের দৌড়বিদদের মতোই কান্ট্রি অপারেশনগুলো, শেষ ল্যাপে নিজ নিজ শেষশক্তি পায়ের পেশিতে জড়ো করে, দৌড়ায় প্রানপণে। লক্ষ বছরের শুরুতে ঠিক করা মঞ্জিলে পৌঁছানো। পলিমাটিতে এরকম দৌড় তো দিয়েছি পেশাগত জীবনের বেশীরভাগ সময়ই। কিন্তু মরু বালিতে তো দিতে চাচ্ছি সেই দৌড় এই প্রথম! দিকে দিকে হজ্জের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত এখন এখানকার সরকারী যাবতীয় কলকব্জা। সৌদির অন্যান্য শহরবাসিদের জন্য এ সময় জেদ্দা, মক্কা, মদিনা ভ্রমণ হয়ে উঠে নিয়ন্ত্রিত।মক্কা তো নিষিদ্ধই। জানতাম না একথা কিছুদিন আগেও!

অন্যদিকে ঝুলছে নাকের ডগায় আসন্ন কোরাবানি ইদে, লম্বা ছুটিতে দেশে যাওয়ার মূলা। অবস্থা তাই ত্রিশংকু! ব্যবসা প্রশাসনের বুদ্ধিজীবীদের মতে, এরকম অবস্থাতেই প্রকৃত নেতা দিয়ে থাকেন তার নেতৃত্বের ধারের ও ভারের পরিচয়। অতএব আছি লেগে আদাজল খেয়ে। কাঁদামাটি থেকে কেচকি মাইর দিয়া হানাদারখেদানো বাংগাল, মরুরবালিতে পা হড়কে, খাবে গড়াগড়ি ধূলায়! তা তো হতে পারে না! একটু সমস্যায় পড়েছি হজ্জকালীন সময়ের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের বিধিনিষেধ বিষয়টি দেরীতে টের পাওয়ায়। নাহ, কেউ ইচ্ছে করে গোপন করেনি। সবাই জানে, এ তো জানা কথাই। কিন্তু এ যে আমার পবিত্রভূমিতে প্রথম হজ্জকালযাপন, খেয়াল করেনি তা কেউ। হজ্জ উপলক্ষে, জেদ্দা এয়ারপোর্ট, মক্কা ও মদিনায় হজের নিয়তে আসা জনতার ব্যথাবেদনার সমাধান হিসেবে, ফ্রি পেইন কন্সালটেশন সেন্টার স্থাপনের আইডিয়া দিয়েছিলাম প্রোডাক্ট ম্যানেজার হাশিশকে। মাস তিন কি চার আগে। তারপরই করেছি ভুলটা।

স্বভাবগতভাবে ট্রাডিশনালিস্ট ও কপিপেস্ট স্পেশিয়ালিস্ট হাশিশ যে নতুন কিছু করতে গিয়ে ভুগবে বদহজমে, তা তো টের পেয়েছি বারবারই। তারপরও রেখেছিলাম অতিরিক্ত ভরসা তার উপর। মোটেও ঠিক হয়নি যা।

এমনকি করিনি খেয়াল তা তখনো, যখন তুমুল অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঐ প্রজেক্ট হাতে নেবার একমাসের মধ্যেই জানিয়েছিল সে, জেদ্দা এয়ারপোর্টে ঐরকম কিছু করা সম্ভব নয়। সিভিল এভিয়েশন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ইত্যাকার বেশ কিছু অধিদপ্তর থেকে নিতে হবে অনুমতি। অতোসব অনুমতির জন্য সময় নাই যথেষ্ট। এছাড়া বিষয়টি একদমই নতুন হওয়ায় কাঠখড়ও পোড়াতে হবে প্রচুর। তবে সে সময় হাশিশ আশ্বাস দিয়েছিল মক্কা, মদিনায় করা যাবে। হয়েছিলাম তাতেই বাগ বাগ। কিছুদিন আগে বসেছিলাম হাশিশের সাথে মক্কা, মদিনায় অস্থায়ী পেইন ক্লিনিক স্থাপনের অগ্রগতি জানতে। মহানন্দে জানিয়েছিল সে, প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামই কেনা হয়ে গেছে। কিন্তু যখনই জানতে চাইলাম, ঐ ক্লিনিক দুটোর জন্য অস্থায়ী লোকবল লাগবে কতজন? কারা যাবে? কবে যাবে? যোগায়নি কোন উত্তর তার মুখে! অর্থাৎ সে ধর্তব্যেই আনেনি বিষয়টা! মেজাজ খিচড়ে গেলেও, নিজেকে সামলে, দ্রুত প্রয়োজনীয় ডাক্তার নার্সসহ অস্থায়ী লোকবলের হিসাব করে, হিউম্যান রিসোর্স হেড গিউসির শরণাপন্ন হয়েছিলাম। পড়েছিল বাজ তখন মাথায়। গিউসি জানিয়েছিল, ধুন্দুমার এইসময়ে, মক্কায় বা মদিনায় অস্থায়ী লোক অসম্ভব। অন্য শহর থেকেও কাউকে ওখানে পাঠানো যাবে না! বিশেষত মক্কায়। হজ পারমিট ছাড়া ওখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না,এসময়! বাজ পড়লেও আকাশ তো পড়েনি ভেঙ্গে! ক্ষুব্ধ না হলেও হতাশ হয়েছিলাম। এদিকে নিজের অসচতেনতা বা ব্যর্থতার দায় অবলীলায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো তো শিখিনি। মনে মনে মাথার চুল ছিঁড়তে ছিঁড়তে, বলেছিলাম তাই হাশিশকে, ওকে টেক ইট এজ ইউর লার্নিং ফর নেক্সট ইয়ার!

এরপর দেরি না করে ডেকেছিলাম জরুরি টিম মিটিং। আগাপাশতলা পারফর্মেন্সতাড়িত, এ কোম্পানিতে নিদানকালের জন্য হাতের পাঁচ হিসাবে আস্তিনে আধুলিটা সিকিটা লুকিয়ে রাখে সকলেই। সে কাল তো সমাসন্ন!

বাংলাদেশে কার, কোন আস্তিনে আপদকালীন সময়ের জন্য থাকে ক’টা আধুলি সিকি, আছে তা নখদর্পণে। কিন্তু এখানে তো নবিস এ অধম। অভিজ্ঞতায় ভর দিয়ে নানান মাসিক রিপোটের্র সংখ্যাগুলোর আচরণ দেখে, কারো কারো আস্তিনের মৃদু টুং টাং আঁচ করলেও, নিশ্চিত তো নই। এখন তো তা হতেই হবে।

কপাল ভাল, আহমেদ রাদি, নাশাত, হেলাল, বাসেম, আমির শামিম, আধুলি সিকিটির না শুধু কিছু আস্ত টাকার খবরও দিয়েছিল। তাতেই বলিয়ান হয়ে বসেছিলাম পরদিন, বসের সাথে, হেড অফ সেলস খলিলকে নিয়ে। নিশ্চিত তিনজনই এই মর্মে যে, জুলাই মাসে ইস্তাম্বুল না কুয়ালালামপুর কেম্পেইন চালু করে যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিলাম, তাতে এখন ইস্তাম্বুল দূর অস্ত। তবে চোখের সামনে আছে কুয়ালালামপুর। বেশ হয়েছিল কাজ, এ মিটিংয়ে! কোম্পানির নীতির প্রশ্নে নিরাপোস, এ মর্মে কিছুদিন আগে সবাইকে ইমেইল দেয়ায়, খলিল ও আমার মাঝে তৈরি হয়েছিল নিম্নচাপজনিত থমথমে ভাব। কেটেছে তা অনেকটাই। স্বভাবগত হাসিখুশি সজ্জন খলিলের কথায়, দেহভাষায় আন্তরিকতার আভাস ফিরতে শুরু করেছে।

মিটিংয়ে খলিল কুয়ালালামপুরের বদলে লাংকাভিতে তিনদিন মিটিং কাম ট্রেনিং করে, ফেরার পথে কুয়ালালামপুরে একদিন শপিং ডে উদযাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল। জানিয়েছিলাম অকুণ্ঠ সমর্থন। এমতাবস্থায় বস রাজী আর না হন কী করে? হাসতে হাসতে, খলিলকে বাড়তি কিছু সেলস, আর আমাকে দিয়েছিলেন প্রফিট নিশ্চিত রাখার চ্যালেঞ্জ।

টাকায় বাঘের চোখও মিলে তো জানি। আর এখানে আসার পর পরই, বলেছিলেন বস, মনে রেখো, এ মরুতে এসেছে যারাই, এসেছে টাকার মোহেই। অতএব অন্যান্য দেশের কর্পোরেট সংস্কৃতিতে উদ্দীপক হিসাবে টাকাকে যাই গুরুত্ব দেয়া হোক না, এখানে এটি তার চেয়ে ঢের বেশী জোরালো উদ্দীপক। অশ্বশক্তিতে বলীয়ান ছুটন্ত দিনগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে ঘটতে থাকা নানান ঘটনার ঘোরপ্যাঁচেও ভুলিনি তা। ফলে বসের লাংকাভি নিশ্চয়তার ঘাড়ে করে আসা চ্যালেঞ্জ নিরসনে, বসেছিলাম একান্তে ইন্সটিটিউশন ম্যানেজার তালাতের সাথে। সর্বক্ষণ ভাসা ভাসা কথায় রহস্যের জাল ছড়িয়ে, গভীর জলের মাছের ভাব ধরে ঘুরে বেড়ানো তালাত হয়েছিল ভীষণ খুশি তাতে।

বুদ্ধিটা দিয়েছিল খলিল। এছাড়া কিছুদিন আগে ডিস্ট্রিবিউটর অফিসের টেন্ডার বিজনেস বিশেষজ্ঞ, নাহরাওয়ি ইঙ্গিত দিয়েছিল একটা পাকা খবরের। সে মোতাবেক দাম্মামের এক হাসপাতাল থেকে বড় অর্ডার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে ঐ ক্রয়াদেশ টেন্ডারে যাবে না। তাই ওটা নিয়ে নাহরাওয়ি কিছু করতে গেলে, তালাত ভন্ডুল ওটা করে দিতে পারে। বলেছিল তাই সে, ‘দেখোই না কী করে তালাত’! খলিলের কথায় পড়েছিল মনে ঐ ইঙ্গিতের কথা। সাথে সাথে ঠিক করেছিলাম দেখাদেখির সময় নাই। তালাত যদি সে খবর নাও পেয়ে থেকে, তবে রাদির রেফারেন্সে জানাতে হবে তা, তাকে। নিশ্চিত করতে হবে সেলসটা। সাথে আরো দুটি হাসপাতালের কথাও বলব এবং অতি অবশ্যই ঝোলাবো ইন্সেন্টিভ গাঁজর। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তালাতের গদগদ বিগলিতভাব দেখে, দেরি না করে সাথে সাথেই মেরেছি বিড়াল। দ্রুতই সম্ভাব্য সুযোগটির কথা জানিয়ে, ঝুলিয়েছিলাম মূলা। অবাক হয়ে চোখ পিট পিট করেছে সে প্রথমে। ভাবটা এই যে, ঐ হাসপাতালগুলোর ঐ খবর তুমি বাঙ্গাল পেলে কীভাবে? ফেলেছিলাম তুরুপের তাস তখন, রাদির নামে। ‘ইউ আর ভেরি স্মার্ট ডঃ সেলিম। নো প্রবলেম। আই নো হোয়াট টু ডু। ডোন্ট টেল ইট এনিওয়ান।’ তালাতের শেষ বাক্যে হেসেছি মনে। এর মানে যে হচ্ছে, কাজটা যদি সে করতেই পারে, তবে বস হিসাবে প্রথমেই আমাকে না জানিয়ে, যাবে চলে সে আমার বস ফিলের কাছে। তুমুল হৈ চৈ করে জানাবে কী পরিশ্রম আর বুদ্ধির জোরেই না, সে ঘটিয়েছে এই অভাবনীয় ঘটনা! করবে দাবী বাড়তি প্রণোদনার। সমস্যা কী তাতে? দরকার তো আমার ফলাফল। এই মারলাম মুখে তালা!

পরশু মানে বুধবার অর্থাৎ এখানকার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে নামতে পেরিছি রোলার কোস্টার থেকে। যাবো দেশে, একদিন পর। এই রোববারেই। দীপ্রর জন্মদিন সোমবার। ওকে সারপ্রাইজ দেবার জন্য, লাজুকে বলেছি, রোববারে যে আসছি তা যেন আর দু কান না করে।

প্রস্তুতি হিসেবে, গত কয়েকদিন অফিস শেষে পুত্রদের নানান খেলনাসহ লাজুর লিস্টি মোতাবেক, বাটার মেয়নেজ পনিরসহ কিনেছি নানান কিছু। সুটকেসে সেসব গোছাতে গোছাতে মনে হলো, দীপ্রকে আরো চমকে দেবার জন্য বাড়তি আরকেটা নার্ফগান কেনা দরকার। বাচ্চু ভাই আসলে চা খেয়ে বেরুনো যাবে।

সকালেই ফোনে জানিয়েছিলেন আসবেন উনি। রোজার ইদে, দেশে মানে ঠাকুরগাঁয়ে গিয়ে, শ্যালক সুমনের কাছ থেকে আমার নম্বর পেয়েছিলেন। এরপর রিয়াদে ফিরেই যোগাযোগ করেছিলেন। সেই থেকে বেশ কয়েকবারই এসেছেন এখানে। আসবেন আজো। বলে রেখেছি তাই গেইটে। আসতে পারেন যেকোন সময়। এই ফাঁকে একটু ঝিমানো যাক, ভাবতে ভাবতে এলিয়ে দিলাম গা ডিভানে– ‘কি সেলিম ভাই, কী করতেছেন? ঘুমাইতেছেন নাকি এইসময় ?’ বাচ্চু ভাইয়ের গলার আওয়াজে উঠলাম ধড়পড়িয়ে। চোখ ডলতে ডলতে বললাম, নাহ মানে এই একটু চোখ লেগে এসেছিল আর কি– ‘সুট্যকেস গোছাইতেছেন? দেশে যাবেন নাকি?’ ঈদ আসছে না। যেতে তো হবেই। আপনি যাবেন না? “আইচ্ছা আপনার ইকামার কি হইলো?” একযুগেরও বেশী সময়ের কুয়েত ও সৌদি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাচ্চুভাই। স্থানীয়দের সাথে অবলীলায় বাতচিত করেন আরবিতে। এখানকার নানান বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী উনি। এরই মধ্যে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতায় জানি, যাচ্ছে আলাপ কোনদিকে। হেসে বলি, গতসপ্তাহেই তো বললাম কোন খবর নাই। একসপ্তাহে আর কী হইব এখানে বলেন? ‘শোনেন শোনেন, তাড়াতাড়ি ইকামা কইরা নেন। সাথে লাজুদেরটাও। তাইলে আর এইভাবে দেশে দৌড়াইতে হইব না। বেহুদা খরচও কমবো।’ আপনি তো অনেকদিন এখানে। ইকামাও আছে আপনার সেই শুরু থেকেই। আপনি কেন ভাবিরে আনেন নাই? ‘শোনেন, আপনার অফিসের লোকরে বইলেন আমার কাছে চ্যানেল আছে। এই ধরেন হাজার বিশ, না পনের হইলেও চলবে, তাতেই ইকামা করাই দিতে পারব।’ ‘দেখেন আমাদের অফিসে যার যা কাজ, সে করে তা। ইকামাটা আমার হইলেও এ ব্যপারে যা করার করবে হিউম্যান রিসোর্স। তারা নিশ্চয় জানে এখানকার পথঘাট।

ঐ ম্যানেজার কি মার্সি নাকি? অইগুলিরে বিশ্বাস নাই। দেখেন গিয়া খালি খালি আপনেরটা ঝুলায় রাখছে। মাঝখান থেইক্কা এই যে আপনের দেশে যাইতে হইতেছে। আইচ্ছা দেশে না গিয়া এই চান্সে হজ কইরা ফেলেন না কেন?’

ঐরকম নিয়ত তো করি নাই। প্রস্তুতিও নাই। আবার দেশেও তো সবাই অপেক্ষা কইরা আছে। ‘আরে দূর প্রস্তুতি আর কী? আছেন তো রিয়াদেই। এখন কইরা ফেলেন নিয়ত। তাইলেই তো হয়।’ শুনলাম এখন তো রিয়াদ বা অন্য কোন শহর থেকে মক্কায় যাওয়া নিষিদ্ধ। যেতে হলে হজ পারমিট নিতে হবে। ‘আপনে হজ করবেন কি না? সেটা বলেন। ঐ সব পারমিট ফারমিট কিছু না। আমার কাছে লাইন আছে। আপনি তো হাইওয়ে দিয়া বা প্লেনে কইরা যাইবেন না মক্কায়। দরকার নাই ঐ পারমিট। সৌদি এক পার্টি চিনি। খুব বিশ্বস্ত। মরুভূমির ভিতর দিয়া নিয়া গিয়া সোজা ঢুকাইয়া দিব মক্কায়।’ আইন ভেঙ্গে এভাবে হজ্জ করলে হজ হবে কী ? শুনে, থমকে যান। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, আচ্ছা মাগরিবের সময় তো হয়ে গেছে, যাই নামাজটা পড়ি। বলেই এগুলেন পাশের রুমের দিকে, যেখানে এর আগেরবার পড়েছেন নামাজ।

লেখক : প্রাবন্ধিক, ভ্রমণ সাহিত্যিক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআত্মিক উন্নয়নের জন্য বই পড়া
পরবর্তী নিবন্ধসমকালের দর্পণ