সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনা লক্ষ্মণ সেনের মতো পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এতিম করে দিয়েছেন। এখন তিনি ফিরে আসবেন, এমন বক্তব্য দিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। তাকে আসামি হয়েই দেশে ফিরতে হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তাই দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।
তিনি গতকাল শুক্রবার নগরীর বাকলিয়া এঙেস রোড়ের মৌসুমী মোড়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদে চকবাজার ও বৃহত্তর বাকলিয়া থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে বাকলিয়া এঙেস রোড় থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি চন্দনপুরা, গণি বেকারী, জামাল খান মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে ও মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার পরিচালনায় এতে প্রধান বক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।
এসময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করার অংশ হিসেবে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা এবং আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা গত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে দলের বদনাম হয়। দলে নতুন করে যারা হাইব্রিড হিসেবে আসছেন, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনো অপকর্ম করতে না পারেন। তিনি বলেন, যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন, তারা আবার ফিরে আসতে চাইছেন। কীসের আশায় তারা ফিরতে চাইছেন, আমরা জানি না। তবে তারা যে অপরাধ, জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছেন এবং মানুষের রক্ত ঝরিয়েছেন, তার হিসাব এ দেশের মানুষ নেবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাসেম বক্কর বলেন, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। হাসিনার নেতৃত্বে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক আর বাংলাদেশে ফিরে এসে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মহসিন, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু। বক্তব্য দেন–বিএনপি নেতা জাকির হোসেন, গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া, ইয়াসিন চৌধুরী আসু, ইব্রাহিম বাচ্ছু, আমিন মাহমুদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, ইউছুপ বাবুল, আলী ইউছুপ, আবদুল্লাহ আল ছগির, মহিউদ্দিন, এমরান উদ্দিন, এটিএম ফরিদ, এম এ হালিম বাবলু, ইয়াকুব চৌধুরী নাজিম, মহিউদ্দিন মিজান, জাকের হোসেন জাকু, জিয়াউর রহমান জিয়া, নুর হোসেন নুরু, গোলজার হোসেন, ইসমাইল হোসেন লেদু, মোহাম্মদ মুছা, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ সোহেল প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।













