দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ২১ জনের মৃত্যু, ১৮ জনই বিদেশি

হতাহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশিও, হোটেলটিতে ৪০ জনের মতো অতিথি ছিলেন যারা চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলেন

| বৃহস্পতিবার , ৪ জুন, ২০২৬ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ

ভারতের দিল্লি নগরীর এক আবাসিক হোটেল ও নিচে থাকা রেস্তোরাঁয় আগুন লেগে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে যাদের ১৮ জনই বিদেশি। হোটেলটিতে প্রায় ৪০ জনের মতো অতিথি ছিলেন যারা চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে মালভিয়া নগরের ফ্লোরিশ স্টে হোটেলের পাঁচতলা ভবনের বেজমেন্টের লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর আগুন পার্শ্ববর্তী মিকাসা ইন হোটেলে ছাড়িয়ে পড়ে।

জানা যায়, আগুনে নিহত ২১ জনের মধ্যে ১৮ জনই বিদেশি নাগরিক। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, নিহত বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, সোমালিয়া, লাইবেরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা রয়েছেন। তবে কোন দেশের ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, তা প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ঘটনায় আহত ১৭ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন। খবর বিবিসি বাংলা ও বিডিনিউজের।

ভারতের অনলাইন সংবাদমাধ্যম রিপাবলিকএর খবরে বলা হয়, হোটেলটিতে নিহত ও আহত বিদেশিদের অধিকাংশই চিকিৎসার কাজে দিল্লিতে এসেছিলেন। দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশনের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় ৫ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন এবং তারা বর্তমানে ম্যাক্স হাসপাতাল ও সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, প্রাথমিক প্রতিবেদনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগেছে বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। শুরুতে বলা হয়েছিল, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হোটেলের কাছের ‘লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁ’ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে পুলিশ পরে স্পষ্ট করে বলেছে, আগুনটি মূলত হোটেল ভবনের ভেতরেই লেগেছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আগুন নেভানো এবং উদ্ধার অভিযানের সময় প্রায় ১০ জন পুলিশ কর্মীও আহত হন।

তদন্তের বরাতে ডব্লিউআইওএনের খবরে বলা হয়, হোটেলটিতে মাত্র ছয়টি রুমের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও তারা প্রায় ২৫টি রুম পরিচালনা করছিল। ফলে অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি এবং নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের গাফিলতির প্রশ্ন উঠেছে।

মালভিয়া নগর মূলত দিল্লির একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। বাসিন্দাদের অনেকেই শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী। আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় ফ্লোরিশ স্টে হোটেল ভবনটিতে প্রায় ৪০ জনের মতো অতিথি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ পরিষ্কার হয়নি। এক ভিডিওতে আগুন থেকে বাঁচতে কিছু লোককে ভবনের উপরের তলাগুলো থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে। পতনের আঘাত কমাতে নিচে তোশক বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বলেন, আগুন থেকে বাঁচতে চার থেকে ছয়জন মানুষকে ভবনটি থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখেছি আমি। নিচে পড়ার পর তাদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে বলে মনে হয়েছে।

হুজরানি এলাকার সরু একটি গলির ভেতর হোটেলটির অবস্থান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি রুম আছে আর সেখানে প্রায় ৪০ জনের মতো অতিথি ছিল যাদের অধিকাংশই চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া বিদেশি নাগরিক। দক্ষিণ দিল্লির একটি নামকরা হাসপাতাল নিকটবর্তী হওয়ায় দিল্লিতে চিকিৎসা করতে আসা অনেকেই থাকার জন্য ফ্লোরিশ স্টে হোটেলটিকে বেছে নেন।

যখন আগুনের সূত্রপাত হয় তখন হোটেলের অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, দিল্লির সরকার ফ্লোরিশ স্টেকে ‘বেড এন্ড ব্রেকফাস্ট’ ধারণার ভিত্তিতে নিবন্ধন দিয়েছিল। এই অনুমোদন অনুযায়ী, হোটেলটিতে মাত্র ছয়টি রুম থাকার কথা। কিন্তু হোটেলটিতে ২৫টি রুম আছে বলে খবর। এমনকি তাদের বেজমেন্টেও রুম ছিল। হোটেলটির অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল কি না, কর্তৃপক্ষ তাও খতিয়ে দেখছে। হোটেলটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও মাত্র একটি।

হোটেলটির রেস্তোরাঁয় কাজ করা শেফ কেসর সিং জানান, সকাল প্রায় ৮টার দিকে তিনি একটি বৈদ্যুতিক চুলার সুইচ অন করার চেষ্টা করতেই হঠাৎ করে আগুন জ্বলে ওঠে। দ্রুতই তিনি বুঝতে পারেন আগুন হোটেলটিকে গ্রাস করে ফেলেছে। আমি তৎক্ষণাৎ আমার সহকারীকে বলি যে হোটেলটিতে আগুন লেগেছে। যখন আমি বের হই দেখি পুরো হোটেলে আগুন জ্বলছে। আমি কোনোরকমে বের হতে পেরেছি, বলেন সিং।

এ ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ভারত সরকার নিহতদের পরিবারগুলোকে ২ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার রুপি বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজামিনে কারামুক্ত হলেন আইভী
পরবর্তী নিবন্ধগণশুনানিতে দেশ ও প্রবাসীদের সমস্যার কথা শুনলেন ডিসি