দফায় দফায় সংঘর্ষে পটিয়া যুবদলের দুই পক্ষ, আহত ১২

জানালা চুরির ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা

পটিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ১ নভেম্বর, ২০২৬ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

পটিয়ায় যুবদলের দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত জঙ্গলখাইন ও হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবদল নেতা আবু বক্কর সুজনের (৪২) অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল নয়াহাট এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের ঘরের একটি লোহার জানালা চুরির চেষ্টায় ইরফান নামে স্থানীয় এক যুবককে সন্দেহ করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন যুবক তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার একটি ভিডিও পাওয়া যায়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক সদস্য যুবদল নেতা মো. সুজন ওই যুবককে ডেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটানোর জন্য শাসিয়ে দেন। এ সময় যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন এর বিরোধিতা করলে সুজনের সঙ্গে থাকা লোকজন আমজাদকে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রাত আটটার দিকে আমজাদের পক্ষের লোকজন এসে সুজনসহ চার–পাঁচজনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আহত সুজনকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ভর্তি করা হয়। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের ভেতরে ও প্রবেশমুখে দুই পক্ষের লোকজন আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পুলিশকে খবর দিলে পটিয়া থানা–পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহত ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবদল নেতা আবু বক্কর সুজন (৪২), মো. টিপু (৩২), জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), রায়হান (৩২), সানজিদুল আলম শুভ (২১), কামাল উদ্দিন মিনহাজ (২১), মাশফি (২০), মো. বোরহান উদ্দিন (২০), মো. আরফান (২৩), আমজাদ হোসেন (৩৬), শরীফুল (৩২) ও আজাদ হোসেন (২৬)। তারা সবাই পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত সুজন বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দিন বকুল জানান, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হলেও দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফটিকছড়িতে অজ্ঞাত পরিচয়ে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধসাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ : পুলিশ