খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌর শহরের ধলিয়া লেক দখল–দূষণে অস্তিত্ব সংকটে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ লেকটির দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। অন্যদিকে হোটেল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির ময়লা–আবর্জনা এবং পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে লেকে। এতে কালচে হয়ে গেছে পানি, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। লেকটি বর্তমানে মশা–মাছির প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন ও মান্নান মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লেকের পাড় দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ এবং পানিতে বর্জ্য ফেলার কারণে ধীরে ধীরে এর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা না থাকায় লেকের বিভিন্ন অংশে জমেছে ময়লা–আবর্জনা। কোথাও কোথাও পানির ওপর ভাসছে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, লেকের দুই পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। লেকের পানিতে জমে আছে ময়লা–আবর্জনা। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহও ব্যাহত হচ্ছে। লেকের আশপাশে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে যেখানে লেকের পানি বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতো, সেখানে এখন মশা–মাছির উপদ্রবের কারণে লেকের কাছে যেতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ মতিন বলেন, ধলিয়া লেকটি মাটিরাঙ্গা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার। এটি দখল ও দূষণের কারণে নষ্ট হয়ে গেলে শুধু পরিবেশের ক্ষতিই হবে না, ভবিষ্যতে শহরের জলাবদ্ধতা ও অগ্নিনির্বাপণের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল কাজল বলেন, ধলিয়া লেকের দুই পাড় অবৈধ দখলে চলে গেছে। ময়লা–আবর্জনা ফেলে লেকটিকে ব্যবহার অনুপযোগী করে তোলা হয়েছে। একসময় এই লেকে গোসল ও মাছ চাষ করা হতো। বর্তমানে এটি মশা–মাছির প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। লেকটি দখলমুক্ত করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, মাটিরাঙ্গাতে যে ধলিয়া খালের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে সেখানে অবৈধ দখলদার আছে, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সহকারী কমিশনার ভূমিও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আমরা আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারি বিধিসম্মতভাবে সেখানে দখলমুক্ত করে যেন লেকটি সুন্দরভাবে কার্যক্রম মেনে কাজ করে এবং সেটি যেন মানুষের কাজে লাগে–সে বিষয়ে সার্বক্ষণিকভাবে আমরা কাজ করছি। আমরা আশা করছি যে অনতিবিলম্বে সেই বিষয়টি উদ্ধার করে কাজ শুরু করতে পারব। ধলিয়া লেকটি নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে দখলমুক্ত করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে।











