শুধু সরকারের বা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এ জন্য সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এসময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও যাতে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তিনি রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ এমপি, সাঈদ আল নোমান এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ–প্রচার সম্পাদক আশাদুল করিম শাহিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদ আওয়াল।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এ জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বর হলে নিজে নিজে ওষুধ সেবন না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জীবন রক্ষায় এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়লেও নভেম্বর মাসে বৃষ্টিপাত কমে আসায় সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে কমার আশা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নাগরিকদের সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথমেই জানতে হবে এডিস মশা কোথায় বংশবিস্তার করে। ফুলের টব, বালতি, বোতল, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের কাপ, ছাদের পানি জমার স্থান, নির্মাণাধীন ভবন এবং ফ্রিজ ও এয়ারকন্ডিশনারের নিচে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নিয়মিত জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।
প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ডেঙ্গু সেন্টারে আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কমেছে। ডা. শাহাদাত বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন উচ্চপ্রযুক্তির বিটিআই পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যা এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর। পাশাপাশি নগরীর ডেঙ্গু চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই সিটি করপোরেশনের ডেঙ্গু সেন্টারে এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ও সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।












