নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে নগরের বিভিন্ন খাল–নালায় নগরবাসী ময়লা–আবর্জনা ফেলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারের তিন প্রতিমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র। ‘নগরের সকল খাল ও পানি নিষ্কাশন নালাসমূহ সারা বছর সচল রাখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের সমন্বয়ের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির সভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
গতকাল শনিবার বিকেলে টাইগারপাসস্থ নগর ভবনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সভায় তিন প্রতিমন্ত্রী ও মেয়রের খাল–নালায় ময়লা ফেলার বিষয়টি উঠে আসে। তাদের বক্তব্যে ছিল অভিন্ন সুর। তারা বলেন, নগরবাসী গৃহস্থালীসহ বিভিন্ন ময়লা–আবর্জনা ফেলায় বারবার পরিষ্কার করার পরও ভরাট হয়ে যাচ্ছে খাল–নালা। এতে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। যা জলাবদ্ধতা সৃষ্টির জন্য দায়ী। এ অবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সুফল পেতে প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা। এছাড়া সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করে জানানো হয়, এ বছর নগরের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমে আসবে।
ময়লা আবর্জনা রোধে নেটিং ব্যবস্থাও চালু : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল। এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান, জোয়ার ভাটার প্রভাব এবং অতিবৃষ্টির কারণে বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এজন্য বিভিন্ন স্থানে আধুনিক স্লুইচ গেট নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে পানির চাপ অনুযায়ী গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে ও বন্ধ হবে। এছাড়া খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং ময়লা আবর্জনা রোধে নেটিং ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরবাসী জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি পাবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রামে এসে জলাবদ্ধতা, খাল খনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এ সময় মেয়রের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়, যা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও চান চট্টগ্রামের মানুষ যেন জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। একেবারে শতভাগ সমাধানের নিশ্চয়তা না দিলেও আমরা দৃঢ়ভাবে কাজ করছি।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং চলমান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরীর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গঠিত শক্তিশালী কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা একযোগে কাজ করছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টির রেকর্ড ৩৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত রয়েছে। এত ভারী বৃষ্টিপাত হলে সাময়িক জলজট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ চলছে। প্রয়োজনে নিচু এলাকাগুলোতে রাস্তা উঁচু করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নও করা হবে। তিনি বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বিভিন্ন খাল ও নদীর সংযোগস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। খালের মুখগুলোতে ড্রেজিং ও পরিষ্কার কার্যক্রম যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
খাল নালায় ময়লা–আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে। খালে ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে এবং সিটি কর্পোরেশন তা সংগ্রহ করবে।
সচেতনতায় জোর মীর হেলালের : নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, শুধু খাল খনন, ড্রেজিং বা রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; নাগরিকদের সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
মীর হেলাল বলেন, সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অনেক খালের আউটলেট সচল থাকলেও খাল–নালায় মানুষের ফেলা আবর্জনা পানি প্রবাহে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে খাল থেকে তোষক, চেয়ার, টেবিল, পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যবর্জ্য পর্যন্ত উদ্ধার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অপসারণ কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তাই জনগণকে সচেতন করতেই হবে। তিনি আরও বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের বালু ও বর্জ্য ড্রেনে ফেলে দেওয়াও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।
মীর হেলাল বলেন, সরকার, সিটি কর্পোরেশন, বন্দর, সিডিএ কিংবা অন্যান্য সংস্থার একার পক্ষে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়; নগরবাসী, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকসহ সব অংশীজনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।
জনসচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান অসম্ভব : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও জনসচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাল ও ড্রেন পরিষ্কারের পরপরই সেখানে আবার বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে শুধু পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে না, পানিদূষণও বাড়ছে। দূষিত পানি থেকে রোগবালাই ও মশার উপদ্রব বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। মো. রাজিব আহসান বলেন, চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্দর এলাকা হয়ে কর্ণফুলী নদী ও সাগরে গিয়ে মিশেছে। তাই বন্দর এলাকায় পানি চলাচলের পথ সচল রাখা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, দিনভর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্বাধীন অংশ সচল রাখতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা যেসব এলাকায় কাজ করছেন, তাদের কার্যক্রম সফল করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ও সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী নদীকে দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন। এ নদী রক্ষার দায়িত্ব সবার। একই সঙ্গে হালদা নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদও দূষণের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ অবস্থায় জনগণকে সচেতন করতে সাংবাদিকদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে কমবে জলাবদ্ধতা : সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, গত বছর চট্টগ্রামে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ৫৭টি খাল এবং প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে সিডিএ ৩৬টি এবং চসিক ২১টি খালের কাজ করছে। এছাড়া বড় আকারের বাড়ইপাড়া খালের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরীর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা ও জলজট নিরসন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় ভিন্ন। বঙ্গোপসাগরের জোয়ার ভাটার প্রভাবের কারণে এখানে পানি নিষ্কাশন একটি জটিল বিষয়। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই স্লুইচ গেট নির্মাণ করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, সাম্প্রতিক বৈশাখী ঝড় ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর কয়েকটি এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও সেটি মূলত চলমান উন্নয়নকাজের কারণে হয়েছিল। তিনি বলেন, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হিজরা খাল, জামালখান খাল, রামপুরা খাল ও আজববাহার খালসহ বিভিন্ন খাল প্রশস্ত ও গভীর করার কাজ করছে। এসব খালে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের সময় অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় কয়েকটি স্থানে পানি জমেছিল। তবে বাঁধ খুলে দেওয়ার পর ধীরে ধীরে পানি নেমে যায়। তিনি বলেন, আগে সরু থাকা খালগুলো এখন অনেক প্রশস্ত ও গভীর হয়েছে এবং এ কাজে বহু অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়েছে।
ডা. শাহাদাত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরেজমিন পরিস্থিতি পরিদর্শন করে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এরপর সেনাবাহিনী, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চসিক একসঙ্গে বসে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাস্তব অগ্রগতি দেখেছেন এবং চলমান কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিকদের দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিক সচেতনতাও জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চসিক ইতোমধ্যে স্কুল হেলথ স্কিম চালু করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থী নিজেদের পরিবারেও সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা একটি টেকসই শহর গড়তে চাই, যেখানে আগামী প্রজন্ম নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ পাবে।
সভায় অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি পুরো নগরীর অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। তাই নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে আমাদের যতটুকু দায়িত্ব আছে, আমরা তা পালন করব। প্রয়োজনে দায়িত্বের বাইরেও অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে চলতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে।
তিনি বলেন, নিয়মিত মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পানি প্রবাহ সচল রাখা হচ্ছে, যাতে খালগুলোর পানি দ্রুত নদীতে নেমে যেতে পারে। জলাবদ্ধতা নিরসনে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সেটিকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, গত বছর যেভাবে কাজ করা হয়েছিল, চলতি বছর তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্ষা শুরুর আগেই কীভাবে খালগুলো পরিষ্কার ও সচল রাখা যায় সে বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই জলাবদ্ধতা নিরসনে সবাই যে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে বন্দর কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণও অর্থবহ ও কার্যকর হোক। তিনি বলেন, গঠিত সমন্বয় কমিটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে সমন্বিতভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে বন্দর এলাকার দায়িত্বপূর্ণ অংশে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম বলেন, আমরা আশ্বস্ত করতে চাই যে চট্টগ্রাম শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে যে কাজ করা দরকার আমরা করছি এবং করব। ইতোমধ্যে গত বছর আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে সাফল্য দেখিয়েছি। ইনশাল্লাহ আমরা চট্টগ্রাম শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে পারব। আমাদের সে ধরনের ক্যাপাসিটি এবং প্রচেষ্টা আছে।













