রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন দেড় শতাধিক ট্রেন চলাচলের সূচি থাকলেও ইঞ্জিন ও জনবল সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনেক ট্রেন চালানো সম্ভব হয় না। প্রতিদিনই সর্বনিম্ন ১৪টি থেকে সর্বোচ্চ ২৪টি পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়েকে। বিলম্বিত হচ্ছে প্রায় ট্রেন।
প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও ট্রেন চালক, সহকারী চালক ও গার্ডের অভাবে প্রতি মাসে গড়ে চার থেকে পাঁচ শতাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল বা আংশিক চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে কেবল যাত্রী ভোগান্তিই বাড়ছে না, রাজস্ব আয়েও পড়েছে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব।
প্রতিদিনই ট্রেন বিলম্বের কারণে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে সিলেট ও জামালপুরগামী যাত্রীদের। বিশেষ করে সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং জামালপুরগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো প্রায় বিলম্ব হয়ে থাকে ইঞ্জিনের কারণে। এ নিয়ে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে যাত্রীদের সাথে প্রায়ই নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ট্রেন বিলম্বের কারণে যাত্রীদেরকে স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। উত্তেজিত যাত্রীরা স্টেশনে ভাঙচুরও করেছেন বেশ কয়েকবার।
এই ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিকী আজাদীকে জানান, পূর্বাঞ্চলে ইঞ্জিন সংকট প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে আমরা প্রতিদিন ১০৫টি ইঞ্জিন পেতাম। এখন ৭২টির মতো পাওয়া যায়। ইঞ্জিনের কারণে আমাদের প্রায় ট্রেনের বিলম্ব হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিদিনই স্টেশনে যাত্রীদের সাথে নানান অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। কোন ট্রেন কখন বিলম্ব হয়–সেটা বলা যায় না। বিশেষ করে সিলেটগামী উদয়ন ও জামালপুরগামী বিজয় এঙপ্রেস ট্রেনগুলো প্রায় বিলম্ব হয়ে থাকে ইঞ্জিনের কারণে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মেকানিক্যাল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬২টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের মধ্যে ৬৯ শতাংশেরই অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। ১ হাজার ২৬৭টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচের মধ্যে ৪৩ শতাংশের অবস্থাও একই।
রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলে দৈনিক ৫৮টি আন্তঃনগর ট্রেন, ৬০টি কমিউটার ও মেইল ট্রেন এবং ৩৮টি লোকাল ট্রেন চলাচলের কথা। সাপ্তাহিক বন্ধ বাদ দিলে মাসে গড়ে সাড়ে চার হাজার যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সূচি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, চাঁদপুরসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটকে সংযুক্ত করতে এসব ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাত্রী চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রেলের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়ক হিসেবেও এসব ট্রেন সার্ভিস বিবেচিত।
লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ (বগি) সংকটে প্রায়ই বিভিন্ন রুটের ট্রেনের যাত্রা বাতিল বা আংশিক চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
রেলের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সাল থেকে লোকোমোটিভ ও জনবল সংকটের অজুহাতে ধারাবাহিকভাবে ১৬টি মেইল ও কমিউটার এবং ছয়টি লোকাল ট্রেন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব ট্রেন বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রী ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বাধ্য হয়ে তারা সড়কপথে যাতায়াত করছেন। যার ফলে সড়কপথের ওপর চাপ বেড়েছে এবং দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকিও বহু গুণ বেড়েছে।












