বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামীকাল ৫ জুলাই ভোর ৩টায় মাঠে নামছে ফ্রান্স এবং প্যারাগুয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। আগের ম্যাচে সুইডেনকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। নিজেদের শেষ ম্যাচে দারুণ জয়ে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স। অন্যদিকে, জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়ে নকআউট পর্বে পা রেখেছে প্যারাগুয়ে। জার্মানিকে বিদায় করে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় আছে তারা।
আক্রমণভাগে এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বলে ও মাইকেল ওলিসের মতো তারকারা থাকায় ফ্রান্সের আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। আর প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল রয়েছেন অসাধারণ ফর্মে। ফিফা র্যাংকিংয়ে প্যারাগুয়ের (৪১তম) চেয়ে ফ্রান্স (৩য়) অনেক এগিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে ফরাসিরা। তবে প্যারাগুয়ে যদি তাদের ডিফেন্সিভ ‘লো–ব্লক’ কৌশল এবং কাউন্টার–অ্যাটাক নিখুঁতভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে যেকোনো অঘটন ঘটিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তারা। ফুটবল বিশ্লেষক ও সুপারকম্পিউটারের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, এই ম্যাচে ফরাসীদের সরাসরি জয়ের সম্ভাবনা ৮১.৫%, যেখানে প্যারাগুয়ের জয় মাত্র ৫.৭%।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই মহা লড়াইয়ে মাঠের নামার আগে ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান এবং দলগত শক্তিতে প্যারাগুয়ের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে রয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। ফুটবল ইতিহাসে দুই দল এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সর্বমোট ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে প্যারাগুয়ে কখনো ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি। ফরাসীরা জিতেছে ৩টি ম্যাচে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ১৬–র নকআউট পর্বেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে অতিরিক্ত সময়ের ‘গোল্ডেন গোল’–এ প্যারাগুয়েকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফ্রান্স। কাগজে–কলমে ফ্রান্স স্পষ্ট ফেভারিট হলেও, জার্মানিকে বিদায় করা প্যারাগুয়ে ফরাসীদের বিপক্ষে আরও একটি রূপকথা লিখতে পুরোপুরি প্রস্তুত
এদিকে প্যারাগুয়েকে নিয়ে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ে দেশোঁম বেশ সতর্ক। সেটা বিশেষ কারণে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর, এই প্রথম বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে দেখা হচ্ছে দুই দলের। সেবার লঁরা ব্লাঁর একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছিল ফ্রান্স। পরে পেয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ। বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর মঞ্চে সেটাই ছিল প্যারাগুয়ের সবশেষ হার। সেবার দেশোঁম ছিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। এবার তিনি কোচ। জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের জয়টি অঘটন মনে করছেন না ফ্রান্স কোচ। তাই, দারুণ ছন্দে থাকলেও, নিজেদের সংযত রাখতে না পারলে বিপদের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। ‘আমি প্যারাগুয়েকে দেখেছি–তারা যেটা অর্জন করেছে, সেটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো যেমন হয়, তারা তেমনই একটা দল; বল দখলের ডুয়েলে শক্তিশালী, ভীষণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং তাদের দলে দারুণ মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। কোনো দলই ভাগ্যের জোরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছায় না।’
শেষ বত্রিশের ম্যাচে সুইডেনকে ৩–০ ব্যবধানে হারানোর পর, জোড়া গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পেও প্যারাগুয়ের সামর্থ্য নিয়ে সতীর্থদের সতর্ক করেছিলেন। ‘ঝুঁকিটা কী, আমি কোথায় আছি, কী করতে হবে–এ ব্যাপারে আমি সচেতন। দলও জানে, কী করতে হবে। নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে।’
তবে তাপমাত্রার চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচটিতে। ম্যাচ চলাকালীন তাপমাত্রা ‘হিট ডোম’ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা খেলোয়াড়দের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।












