স্বস্তির নৌ-পথ শুষ্ক মৌসুমে দুঃখের কারণ

রাঙামাটি প্রতিনিধি | শনিবার , ৪ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

তীব্র দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি কমছে। পানি কমতে থাকায় রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে পাঁচ উপজেলার নৌযোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বেড়েছে দুর্ভোগ ও ঝুঁকি। বছরের বেশিরভাগ সময় নৌপথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ হলেও শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদ যেন আরেক দুঃখের কারণ।

১৯৬০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দেওয়ার ফলে ৭২৫ বর্গকিলোমিটারের কাপ্তাই হ্রদের সৃষ্টি হয়। দেশের একমাত্র জল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট থেকে দৈনিক ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানি রয়েছে ৭৫ দশমিক ৮১ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। যদিও বছরের এসময়ে হ্রদে পানি থাকার কথা ৮৪ দশমিক ১৬ এমএসএল।

হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে পাঁচটি উপজেলা বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়িতে যাত্রী নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না লঞ্চগুলো। ফলে যাতায়াতের খরচও বেড়েছে। এছাড়া হ্রদের মাঝে কিছু ডুবোচরে লঞ্চ ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলারগুলো আটকে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে। গত ২৬ মার্চ জুরাছড়ি উপজেলা থেকে রাঙামাটিগামী একটি লঞ্চ পানির নিচে থাকা গাছের গুঁড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়, এতে লঞ্চের তলা ফেটে যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা না হওয়ায় প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী বিপদ থেকে রক্ষা পায়।

জুরাছড়ির বাসিন্দা সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, রাঙামাটি শহর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলা সীমানা নতুুন বাজার পর্যন্ত আসতে পারে। সেখান থেকে ছোট বোটে করে জুরাছড়ি উপজেলা রাস্তা মাথা পর্যন্ত এসে তারপর রাস্তা মাথা থেকে মোটরসাইকেলে করে উপজেলা সদর পর্যন্ত আসতে হয়। এতে চারপাঁচগুণ ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। জুরাছড়ি উপজেলার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম নৌপথ হওয়ায় এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এখানকার লোকজন।

বিলাইছড়ির উপজেলার কুদ্দুস নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, হ্রদে পানি এখন একদম নেই বলে চলে। জেলা শহর থেকে মালামাল নিয়ে উপজেলাতে পৌঁছাতে খুব কষ্ট হয়। পরিবহন ভাড়া বেশি হওয়ায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। বৃষ্টি না হলে পানি যদি না বাড়ে হয়তো কষ্ট আরও বাড়বে। বরকল উপজেলায় বাসিন্দা ভাগ্য রতন চাকমা বলেন, পানি কমে যাওয়ায় আমাদের যোগাযোগ কষ্ট হয়ে পড়েছে। জরুরি কাজে জেলা সদরের সঙ্গে সবসময় যাতায়াত করতে হয়। পানি কমে যাওয়ার লঞ্চগুলোও ঠিকমতো চলতে পারে না। মাঝে মাঝে লঞ্চগুলো চরে আটকে গিয়ে ছোটোখাটো দুর্ঘটনাও ঘটে।

রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য উপজেলাগুলোতে কোনো রকম অর্ধেক পর্যন্ত যেতে পারে। বৃষ্টিপাত না হলে হ্রদের পানি না বাড়লে লঞ্চগুলো চলাচল করতে পারে না। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নৌপথে যাতায়াতে পাঁচ উপজেলার মানুষের দুর্ভোগে পড়তে হয়। দ্রুত কাপ্তাই হ্রদটি খনন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, কাপ্তাই হ্রদ খননের দাবি এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের। ইতোমধ্যে নদীপথ খননে ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আশা করছি, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর অক্টোবরের দিকে কাজ শুরু করতে পারব। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মানুষের দুর্ভোগ লাগব হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশের পরিবর্তনে যুবসমাজকে আদর্শ ও মানবিকতায় গড়ে তুলতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধপুকুরে ডুবে তিন মৃত্যু