কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র মানব পাচারকারীদের সাথে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় লোকজন। সন্ত্রাসীদের নির্মূল ও কঠিন শাস্তির দাবি করেছেন তারা। অভিযানে মানব পাচারকারীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৬ জিম্মিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ঘটনাস্থলে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এসব মরদেহ মানবপাচারকারী বা ডাকাতদলের সদস্যদের হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া ঘটনার পর থেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে হ্নীলা ইউনিয়নে নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পের পূর্বে পাহাড়ে তিনটি লাশ পড়ে থাকার একটি খবর চাউর হয়। কিন্তু পুলিশ এর সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেনি।
সেনাবাহিনীসহ আইন–শৃক্সখলা বাহিনীর ওপর হামলা ও সেনা সদস্য নিহতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল জুমার নামাজের পর টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় লোকজন। এই হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তারা। একই সাথে মানব পাচারকারীদের আস্তানা নির্মূলে পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।
তারা বলেন, ‘পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান প্রয়োজন। তা না হলে মানব পাচারকারীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ভাঙা সম্ভব হবে না। প্রতিদিনই পাহাড়ে গুলির শব্দ শোনা যায়। সশস্ত্র পাচারকারীদের কারণে পুরো এলাকা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। বাহারছড়া, হ্নীলা ও হোয়াইক্যংয়ের পাহাড়ে সশস্ত্র অস্ত্রধারীদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। এসব আস্তানা নির্মূলে একযোগে সাঁড়াশি অভিযানের বিকল্প নেই।’
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ে মানব পাচারকারীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৬ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। খবর পেয়ে তাদের স্বজনরা থানায় আসেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ফরিদপুরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান বলেন, দুই দিন আগে শতাধিক নৌকাসহ একটি ট্রলার সাগরপথে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমাকে আরও পাঁচজনের সঙ্গে সেখানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জায়গা না থাকায় সেদিন ট্রলারে তোলা হয়নি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ঘটনার দিন আমাদের পাচারের পরিকল্পনা ছিল। ভাগ্যিস, সেনাবাহিনী এসে আমাদের উদ্ধার করেছে।’
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সশস্ত্র মানব পাচারকারীদের গুলিতে সেনাসদস্য সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন। অভিযানে মানব পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বিজিবি ও পুলিশ অংশ নেয়। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানব পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। অপরাধ করে কারো পার পাওয়ার সুযোগ নেই। মানব পাচারের বিষয়েও আমরা খোঁজখবর রাখছি।












