জীবনে এগিয়ে যেতে হলে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে

সঙ্গীতালয়ের অনুষ্ঠানে আজাদী সম্পাদক

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ

একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, সঙ্গীতের যে খুব বেশি কিছু বুঝি, তা কিন্তু না। তবে আমি সঙ্গীত শুনি। আমি লন্ডনের রয়েল অ্যালবার্ট হলে লতা মঙ্গেশকরের লাইভ কনসার্ট শুনেছি। এছাড়া একই হলে সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকরের লাইভ কনসার্টও উপভোগ করেছি। সেদিক থেকে চিন্তা করলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান বলতে পারি। স্টিভি ওয়ান্ডার নামে আমেরিকার একজন অন্ধ শিল্পী ছিলেন। তার একটি বিখ্যাত গান ছিল ‘আই জাস্ট কল টু সে আই লাভ ইউ’। আমেরিকার লাস ভেগাসে উনার কনসার্ট উপভোগ করেছিলাম। এছাড়া আমি মাইকেল জ্যাকসনের লাইভ শোও দেখেছি।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সঙ্গীতালয় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এম এ মালেক বলেন, অনেক মানুষ দেখা হলে আমাকে জিজ্ঞেস করে, দেশের কী হবে? আমি তাদের বলি, দেশ কোথাও যাবে না। তার আগে নিজেকে নিয়ে ভাবেন। কারণ আমরা এখানে যারা আছি, আমরা যদি আমাদের প্রত্যেকে পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সুসংগঠিত করতে পারি, তাহলে সামগ্রিকভাবে দেশ এগিয়ে যাবে। সেখানে কেউ আমাদেরকে বাধা দিতে পারবে না। সুতরাং আগে আমরা নিজেকে নিয়ে ভাবব।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আজাদী সম্পাদক বলেন, জীবনে এগিয়ে যেতে হলে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। কারণ নাথিং ইজ ইম্পসিবল ইন দিস ওয়ার্ল্ড। আমরা যদি ইম্পসিবল শব্দটি ভাগ করি তাহলে হয় ‘আই এম পসিবল’। লেট আস থিংক পজিটিভ। আমরা ইম্পসিবল চিন্তা করব না। আমরা চিন্তা করব ‘আই এম পসিবল’। উপরওয়ালা চাইলে তো আমাদের চোখ দুইটা পেছনে দিতে পারতেন। কিন্তু দেননি। কারণ পেছনের দিকে না তাকানোর জন্য। আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে। আমাদেরকে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। আরেকটি কথা বলতে হয়, এই পৃথিবীতে মাত্র তিনজন লোক তোমাদের ভালো চায়। এরা হলো তোমার শিক্ষক এবং মাবাবা। ওরা যা বলেন সেটার দিকে তোমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ উনাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমরা যাতে ভালোভাবে পড়াশোনা করে এগিয়ে যেতে পারো। সুতরাং উনাদেরকে সম্মান করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ও সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রীতা দত্ত বলেন, অভিভাবকদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, মাঝপথে আপনাদের সন্তানদের সংস্কৃতির চর্চায় বাধা সৃষ্টি করবেন না। তারা

লেখাপড়া নিশ্চয়ই করবে। কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হবে, ব্যবসায়ী হবে। কিন্তু সবার উপরে থাকতে হবে মানবিকতাবোধ। আমাদের সন্তানেরা যেন সম্পদের পেছনে না ছোটে। আমাদের সন্তানেরা ছুটবে সত্য সুন্দর মঙ্গলের পেছনে। মূল্যবোধের জীবন আমাদের বেছে নিতে হবে। আমাদের জীবনের তিনটি আদর্শ সত্য, সুন্দর, মঙ্গল। কোনো অবস্থাতেই আমাদের সন্তানরা যেন আদর্শচ্যুত হতে না পারে।

সঙ্গীতালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সুতপা চৌধুরী মুমুর সভাপতিত্বে ও বাচিকশিল্পী অধ্যাপক দেবাশীষ রুদ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন লেখক, গবেষক ও মরমি সাধক মো. শাহেদ আলী ও সুতপা চৌধুরীর রত্নাগর্ভা মা শুক্লা চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অপর্ণাচরণ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল, প্রবর্তক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনোজ কুমার দেব এবং লায়ন বাসুদেব সিংহ। অনুষ্ঠানে মৃত্তিকা দাশ, সরস্বতী দাশ, শ্রেয়সী চৌধুরী চৈতি, শ্রীনন্দা মিশেল, অবন্তিকা পাল ও ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী নামে সংগীতালয়ের ৬ কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতিন পার্বত্য জেলায় নির্মাণ হবে আরো তিনশ কিলোমিটার সড়ক
পরবর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা