জামিন পেয়েও ঘরে ফেরা হলো না সেই শিশুর

বাবা-মায়ের আবেদনে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণ

হাবীবুর রহমান | বৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ

দুইশ টাকার লোভে ২১পিস ইয়াবা বহন করে আইনের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া সেই শিশুটির আর ঘরে ফেরা হয়নি। বিচারকের আদেশে জামিন মঞ্জুর হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের আপত্তি ও অপারগতার কারণে তাকে পাঠানো হয়েছে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। গত ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের শিশু আদালত১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের আদালতে প্রবেশন কর্মকর্তা ও অভিভাবকের উপস্থিতিতে শিশুটির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল। নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, জামিন আদেশ দেওয়ার পরপরই শিশুটির বাবামা আদালতে একটি লিখিত আবেদন করেন। উক্ত আবেদনে বাবামা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ওই কিশোর বিভিন্ন দুষ্টু চক্রের সাথে মেলামেশা করে আসছে এবং সে মাদক গ্রহণ ও মাদক পাচারের সাথেও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের পক্ষে তাকে কোনোভাবেই সঠিক পথে পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই নিজেদের অপারগতা প্রকাশ করে তারা আদালতের কাছে আবেদন জানান যেন শিশুটির জামিন বাতিল করে তাকে সংশোধনের জন্য কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পরিবারের এমন অবস্থানের পর শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং তাকে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন তামাকুমুণ্ডি লেন এলাকা থেকে ১৬ বছরের শিশু নিলয়কে (ছদ্মনাম) স্থানীয়দের কাছ থেকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগবিক্রির উদ্দেশ্যে তার কাছে ২১ পিস ইয়াবা ছিল, যার ওজন দুই গ্রাম। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সূত্র জানায়, মারধর পরবর্তী শিশুটিকে একটি কক্ষে আটকে রেখেছিল মারধরকারীরা। সেখান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ শিশুটিকে পরদিন তথা ১৬ আগস্ট আদালতে উপস্থাপন করে। কিন্তু জিম্মাদার না থাকায়, অভিভাবক কিংবা প্রবেশন কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় সেদিন তাকে জামিনে মুক্তি দিতে চেয়েও পারেননি বিচারক। তাকে সেদিন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। সেই সাথে শুনানির জন্য ১৯ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়। এ সংক্রান্ত আদেশে আদালত শিশুটিকে পেশাদার অপরাধীর বদলে একটি নির্মম চক্রের অসহায় ভিকটিম হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। শিশুকে মাদকের বাহক বানানো আসল চক্র এবং জনরোষে তাকে বেদম মারধরকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আলাদা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, আইন লঙ্ঘন করে কিশোরের ছবি নথিতে যুক্ত করার ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব এবং রাষ্ট্রীয় খরচে আইনি সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী জসিম উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, আদালত জামিন দেওয়ার পর শিশুটির বাবামা জামিন বাতিল চেয়ে একটি আবেদন করেন। সেখানে তারা কোনোভাবেই তাকে সঠিক পথে পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন। একপর্যায়ে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। সেই অনুযায়ী শিশুটিকে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মানবাধিকার আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক আজাদীকে বলেন, আদালত দারুণ একটি আদেশ দিয়েছিলেন। শিশুটিকে জামিনও দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারের আবেদনে তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাবামা তাদের হেফাজতে শিশুকে রাখার সাহস পাচ্ছেন না। তারা হয়তো ভাবছেনছেলে অবাধ্য হয়ে গেছে। তাকে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাবামা যদি রাষ্ট্র থেকে অভয় পেতেন, সেক্ষেত্রে নিজের শিশু সন্তানকে কখনো কারাগার তথা কিশোর উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠাতে চাইতেন না।

উল্লেখ্য, শিশু আইন অনুযায়ীআইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুদের কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের উদ্দেশ্যে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ ৮ সপ্তাহ বন্ধের নির্দেশ
পরবর্তী নিবন্ধশ্বশুরবাড়ি থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বাভাবিক মৃত্যু নয় দাবি পরিবারের