ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি’ দেওয়ার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এক দিনের রিমান্ড শেষে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান। খবর বিডিনিউজের।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন শনিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড শেষে গতকাল রোববার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম।
আবেদনে বলা হয়, এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার ঘটনা সম্পর্কে আসামিকে ‘ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে’ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার ঘটনার ‘সত্যতা স্বীকার’ করেছেন এবং কিছু ‘তথ্য’ দিয়েছেন। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে জানিয়ে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এদিকে আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন।
এদিকে শুনানির সময় আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার মিনিট দুয়েক পর ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাসে ওঠেন। এজলাসে দাড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ২ টা ৪১ মিনিটের দিকে ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। মিনিট দুয়েক পর পুনরায় এজলাসে আসেন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। পরে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শুনানি শেষে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতের নিচে এসে তাদের বের করে দিতে যান। কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে তারা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে কয়েকজনকে মারধর করে আদালত প্রাঙ্গন থেকে বের করে দেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এদিকে নিচে এসে জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা তাদের রক্ষা করতে যান। এসময় দুই পক্ষের আইনজীবীরা ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।











