এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় সাতক্ষীরা–৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজের।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ছিলেন।
তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে তার কয়েকটি অংশে দেখা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে নজরুল ইসলাম একটি কক্ষে অবস্থান করছেন। কোনো অংশে আবার তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতের এই নেতা।
এমপি পদের কী হবে : নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করায় তার এমপি পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও সংবিধান বলছে, সংসদ সদস্য তার নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে।
২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৯ সালে বিএনপির দলীয় এমপিদের কয়েকজনের শপথের পর একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ওই এমপিরা শপথ নেওয়ায় তাদের বহিষ্কারের গুঞ্জন উঠেছিল। এই প্রেক্ষাপটে তখনকার আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, দল বহিষ্কার করলে এমপি পদ যাবে না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ–সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি-(ক) ওই দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তা হলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘আর্টিকেল ৭০ বলেন বা আর্টিকেল ৬৬, যেখানে ডিসকোয়ালিফিকেশনের কথা বলা আছে, দুই জায়গায় কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। তবে যেটা আসে সেটা হলো যখন পার্টি একজন লোককে নমিনেট (মনোনীত) করে, জনগণ কিন্তু সেই পার্টির নোমিনেশনের ভিত্তিতেই তাকে ভোটটা দেয়। পার্টি যখন তাকে বহিষ্কার করে তখন স্বাভাবিকভাবেই কিন্তু ওই জনগণের রায় বা ম্যান্ডেটটা কিন্তু অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে, কারণ তারা তো পার্টির পক্ষে দিয়েছিল তাকে। পার্টি যখন তাকে যেকোনো অসৎ কাজের জন্য বহিষ্কার করে, তখন কিন্তু সেখানে ওই নৈতিকতার প্রশ্নটা চলে আসে যে তার এটা থাকবে কিনা।
তিনি আরও বলেন, পদত্যাগ হলো স্বেচ্ছার ব্যাপার, আর এখানে বহিষ্কারটা হলো পার্টির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। ওই জায়গাটায় এখনো যে একটু তর্ক আছে, লিগ্যাল বিতর্ক আছে। তবে একটা মামলায় কোর্ট বলে দিয়েছিল স্পিকারকে যে, ইউ সেন্ড দ্য ম্যাটার টু ইলেকশন কমিশন, দে উইল ডিসাইড (আপনি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠান, তারা সিদ্ধান্ত নেবে)। এক্ষেত্রে (গাজী নজরুল ইসলাম) আমার ব্যক্তিগত মত হলো যে, যেহেতু জনগণের ভোটটা হয়েছে পার্টির নমিনেশনে, পার্টি যদি তাকে বহিষ্কার করে, সেখানে জনগণের মতটা তো আর থাকার কথা না। অতএব সেক্ষেত্রে তার সিটটা ভ্যাকেন্ট (শূন্য) হওয়া প্রয়োজন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির এ বিষয়ে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে আছে পদত্যাগ। তিনি হয়েছেন বহিষ্কার। জামায়াত আজকেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিচ্ছে। কারণ নৈতিক স্খলন। প্রশ্ন হচ্ছে সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন কি না? আমার মতে– না।












