চট্টগ্রামে কর্মস্থলে ফিরতে বদরখালী থেকে সিএনজি টেক্সিযোগে রওনা দিয়েছিলেন মহেশখালীর দুই যুবক। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানো হয়নি তাদের। বাঁশখালীর মনছুরিয়া বাজার এলাকায় মাছবাহী মিনি ট্রাকের সঙ্গে সিএনজি টেক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন নাঈম উদ্দিন মোহাম্মদ নোমান ইলাহি (৩৪) ও মোহাম্মদ বীর বাহাদুর ইসলাম (২৮)। এ ঘটনায় টেক্সি চালকসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাঁশখালী প্রধান সড়কের মনছুরিয়া বাজারের উত্তর পাশে গরুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নোমান ইলাহি মহেশখালী পৌরসভার লাতুয়ার ডেইল এলাকার হাফেজ আবুল বশর ও কামরুন নাহার দম্পতির ছেলে। তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। অপর নিহত বীর বাহাদুর ইসলাম মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের জাহিদাঘোনা এলাকার মৃত জালাল আহমদের ছেলে। তিনিও চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে তারা কর্মস্থলে যোগ দিতে চট্টগ্রামে ফিরছিলেন।
এ ঘটনায় আহত হন মাতারবাড়ি এলাকার মোজাম্মেল হকের মেয়ে মনি বেগম (২৪), চকরিয়ার বদরখালী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. হেলাল (২২) এবং টেঙি চালক। তবে দুর্ঘটনার পর আহত চালক পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বাঁশখালী হয়ে পেকুয়াগামী মাছবাহী একটি মিনি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বদরখালী স্টেশন থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী টেঙির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় টেঙিটির সামনের অংশ দুমড়ে–মুচড়ে যায়। এতে নোমান ইলাহি ও বীর বাহাদুর ইসলাম গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আছরার উল্লাহ নুরী জানান, দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে নোমানের ডান হাত ও ডান পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানার মর্গে রাখা হয়েছে। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত টেঙি ও মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ট্রাকচালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।












