রাউজানে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনসাধারণ সূত্রে জানা যায়, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ প্রতিদিন জ্বর নিয়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়ে পজেটিভ রিপোর্ট পাচ্ছেন। চট্টগ্রাম ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে বসবাসকারী অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সূত্র মতে, চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা করিয়ে অনেকের শরীরে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের কেউ কেউ নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ উপজেলার বিভিন্নস্থান থেকেও ডেঙ্গু সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন দক্ষিণ রাউজানের বাসিন্দা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লিটন মহাজন। পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী টুটুন মহাজন বলেছেন, তার দুই ছেলে মেয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১০দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখন বাসায় ফিরেছে।
চুয়েটের বিভিন্ন হলে থাকা শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে থাকা হল সমূহের আশেপাশে জমে থাকা পানি এখন মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এডিস মশার কামড়ে অনেকের শরীর ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করছে। দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গুর বিভিন্ন উপসর্গ।
চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার (কো–অডিনেটর) ডা. রাণী আকতার বলেন, এখানে জুলাই মাস থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। অনেকের শরীরে রক্ত পরীক্ষায় পজেটিভ রির্পোট আসে। চুয়েটের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. খোরশেদুল আলম বলেন, গায়ে জ্বর নিয়ে প্রতিদিনই কম বেশি রোগী আসছে। লক্ষণ দেখে আমরা রক্ত পরীক্ষা করি। সংক্রমণের ধরণ দেখে রোগীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই চিকিৎসকের পরামর্শ ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে হলে বাসা বাড়ি ও হল সমূহের আশেপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মশার প্রজনন স্থান সমূহ ধ্বংস করতে করতে পারলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে যাবে।
চুয়েট মেডিকেল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসে এখানে জ্বর নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসা ২৩ জন রোগীর সাতজনের শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। আগস্টে আসা ৫৭ জনের মধ্যে পজেটিভ আসে ২১ জনের। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর ১৬ তারিখ পর্যন্ত আসা ১৩জন রোগীর মধ্যে পজেটিভ রির্পোট এসেছে সাত জনের। চুয়েট ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ক্যাম্পাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন হলের প্রভোস্টদের মশার প্রজনন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে ধ্বংসের ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তারা কাজ শুরু করেছেন। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. টিপলু কান্তি দে বলেছেন, মানুষ গায়ে জ্বর নিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে আসছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। অনেককে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠাচ্ছি। সংক্রমণের ধরণ বিবেচনায় এই পর্যন্ত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছি। এই চিকিৎসক জানান, ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য কেন্দ্র এলাকায় পরিষ্কার পরিছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে ফগার মেশিনে ওষুধ ছিঁটানো হয়েছে।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফজল করিম বাবুল বলেছেন, সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নানা বয়সী নারী পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও ডেঙ্গু জ্বরে সংক্রমিত হয়। অনেক সময় অভিভাবকগণ তা বুঝতে পারেন না। বেশিরভাগ সময় শিশুর জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে চিকিৎসায় অবহেলা হয়। এমন অবস্থায় আক্রান্ত শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। এই চিকিৎসকের মতে শিশুদের জ্বরের চিকিৎসায় অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতার পাশাপাশি সংক্রমণ রোধে নিজ নিজ বাসা বাড়ি ও আশেপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করে রাখা হলে ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে সকলের পরিবারকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব।












