চুয়েটে কর্মবিরতির ঘোষণা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | শনিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগ ও পূর্বের উপাচার্যকে অপসারণকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ ও তাঁর যোগদানের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। গত বৃহস্পতিবার অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত যোগদানপত্র পাঠান। এর প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের এই যোগদান প্রত্যাখ্যান করে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে দেয়াল লিখনের ঘোষণা দেন। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন জানান, শিক্ষকরা ইতিমধ্যে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরাও কোনোভাবেই অধ্যাপক শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে দেখতে চান না।

এদিকে উপাচার্য পদ থেকে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ ও নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় জুম প্ল্যাটফর্মে এক জরুরি সভা করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। সভায় সর্বসম্মতভাবে অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয় এবং ওই রাত থেকেই সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এই কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো। এছাড়া শিক্ষক সমিতির সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে চলমান অনিশ্চয়তা নিরসনে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনও গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর এক অনলাইন জরুরি সাধারণ সভায় সর্বসম্মতভাবে কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন ও সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চুয়েট শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অবস্থান ও দাবি এবং শিক্ষক সমিতির গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে জরুরি সেবা কার্যক্রমকে আওতামুক্ত রেখে এই কর্মবিরতি পালন করা হবে। চুয়েট পরিবার ও সম্মানিত সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিঙ অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস–চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা। গত চার দিন ধরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে অস্ত্রসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধ৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে বাসে মা-মেয়ে, গ্রেপ্তার