‘চাকসুর মেয়াদ ২৮ দিন, এরপর পিটিয়ে বের করে দেব’হল

ভিপিকে ছাত্রদল নেতার হুমকি

চবি প্রতিনিধি | বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) রিপুল চাকমাকে ‘চাকসুর মেয়াদ গুণে গুণে ২৮ দিন আছে। এরপর পিটিয়ে বের করে দেব’ বলে হুমকি দিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর হলটির ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগের পর হল প্রশাসনের এক শিক্ষক ও হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে গেলে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্ত নাছিম উদ্দিনের দাবি, তাকে গালি দেওয়ার পরই তিনি হুমকি দেন।

হল সংসদ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগ পেয়ে সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলমসহ হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে যান। তবে সেখানে অবৈধভাবে থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

ভিপি রিপুল চাকমার অভিযোগ, একপর্যায়ে নাছিম উদ্দিন তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, চাকসুর মেয়াদ গুণে গুণে ২৮ দিন আছে। এরপর পিটিয়ে বের করে দেব।

তবে নাছিম উদ্দিনের দাবি, তাকে গালি দেওয়ার পর হুমকি দেন তিনি।

হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমা বলেন, গতকাল আমি দেখি কয়েকটি জিনিসপত্র নিয়ে একজন শিক্ষার্থী হলে আসে এবং বলে সে ৩১৩ নম্বর রুমে উঠেছে। এ নিয়ে আমি গ্রুপে কথা বলি। পরে স্যারসহ আমরা সেখানে যাই। সেখানে একপর্যায়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এ রুম নিয়ে আগে থেকেই ঝামেলা রয়েছে। এখানে বিশেষ বিবেচনায় সিট দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক রুমে চারটি করে সিট থাকলেও তারা সেখানে পাঁচটি সিট নিয়েছে। আমাদের প্রার্থনা রুম থেকে একটি সিট নিয়ে সেখানে দিয়েছে। এ হলেই সিট বরাদ্দের সময় রুম খালি রেখে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে রুম দেওয়া হয়েছে। নাছিম উদ্দিনের গালি দেওয়ার অভিযোগে রিপুল চাকমা বলেন, আমি কক্ষে কাউকে গালি দিইনি।

অভিযুক্ত নাছিম উদ্দিন বলেন, আমি তাকে বললাম, আমাদের রুম নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিতে পারিস না। তখন সে বলে, এটা তার অধিকার। আমাকে গালি দিলে আমি তখন তাকে হুমকি দিই। আমাকে গালি দেওয়ার জন্য তাকে ভিপি বানানো হয়নি। আমি হুমকি দিয়েছি, তবে আমাকে গালি দেওয়ার পর বলেছি।

সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর রুমে যাই। কিন্তু রুমে যারা থাকে তারা জানায় অবৈধ কেউ নেই। তারা অতিথি ছিল, ঘোরার জন্য এসেছিল। এরপর কথা কাটাকাটি হয়।

সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম বলেন, একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ হলের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যা হয়েছে, অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমায়ের কোল থেকে পড়ে রিকশার চাকায় প্রাণ গেল শিশুর
পরবর্তী নিবন্ধচবিতে প্রভোস্টকে দুই ঘণ্টা আটকে রাখলেন হল সংসদের নেতারা