চবিতে ৪২ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে ২ দিনব্যাপী মুট কোর্ট কম্পিটিশন

চ্যাম্পিয়ন ঢাবি, রানার্সআপ স্বাগতিক চবি

চবি প্রতিনিধি | রবিবার , ৭ জুন, ২০২৬ at ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের আইন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘৪র্থ প্রফেসর ড. খবির উদ্দিন আহমেদ ন্যাশনাল মুট কোর্ট কম্পিটিশন’। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে স্বাগতিক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৫ ও ৬ জুন ২দিনব্যাপী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা।এবারের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল’। চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরা হলেন জান্নাতুল মাওয়া সূচি, জায়েদ ইকরাম ও নাফিসা তাবাস্‌সুম। অন্যদিকে রানার্সআপ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদস্যরা হলেন মাশরুরা হক ওয়াফা, মুমতাহিনা ইমরোজ ও সাকিব হোসেন।চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য জায়েদ ইকরাম বলেন, আমরা প্রায় এক মাস ধরে এ প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। গত দুই দিন অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রতিযোগিতা নিয়ে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলাম। চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে সত্যিই অনেক ভালো লাগছে।

দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩টি দল তাদের মেমোরিয়াল জমা দেয়। যাচাইবাছাই শেষে সেখান থেকে ১৬টি দল মূল প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়। প্রতিযোগিতাটি প্রিলিমিনারি রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ মোট পাঁচটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জাস্টিস সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিচারপতি জাস্টিস রেজাউল করিম। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন বলেন, আইন পেশা একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও অনন্য অবস্থান। আদালত ন্যায়বিচারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। সাংবিধানিকতা, আইনের শাসন এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে যাঁরা এ ব্যবস্থার সেবা করেন বিচারক, আইনজীবী এবং আইন শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ব্যক্তিত্বদের ওপর।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপউপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ফর বাংলাদেশ আরশাদুর রউফ এবং আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. জাফর উল্লাহ তালুকদার। প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আমার জীবনের একটি বড় অভিজ্ঞতা হলো অ্যাডজুডিকেটর প্যানেলে বসে সরাসরি একটি মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা দেখা। এখানে অংশগ্রহণকারী মুটারদের অভিনন্দন জানাই। আজকের মামলাটি ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সংশ্লিষ্ট একটি জটিল মামলা। প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স উভয় পক্ষই এমন দক্ষতার সঙ্গে যুক্তি উপস্থাপন করেছে যে শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হবে তা অনুমান করা কঠিন ছিল। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে যেভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যে দলই বিজয়ী হোক না কেন, উভয় দলই অভিনন্দনের দাবিদার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন) ও জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ এ..এম. ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলএল.এম. অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার শাহ মোহাম্মদ এজাজ রহমান এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের ডিন এ.বি.এম. ইমদাদুল হক খান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, প্রয়োজন বনায়ন
পরবর্তী নিবন্ধনতুন চিন্তা-উদ্ভাবন এবং কার্যকর পদক্ষেপে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে