চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডি চলছে ২০ শতাংশ জনবলে

শুল্কায়ন কাজে ধীরগতির অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের

জাহেদুল কবির | শনিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বেসরকারি ডিপোতে কাজের চাপ বাড়ায় গত পহেলা আগস্ট থেকে নতুনভাবে যাত্রা করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, আইসিডি। ফলে একদিকে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ওপর কাজের চাপ কমেছে, আবার অন্যদিকে জনবল সংকটের কারণে কাস্টম হাউস আইসিডি রীতিমত ধুঁকছে। নতুন সংস্থাটিকে ২৩টি বেসরকারি ডিপো বা ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপো (আইসিডি) থেকে ৬৫ ধরনের পণ্য খালাসের শুল্কায়ন কার্যক্রমও চালাতে হচ্ছে। এছাড়া সকল ধরনের রপ্তানি পণ্য এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শতভাগ আমদানি–রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়নও এখন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডিকে করতে হচ্ছে। কাজের ক্ষেত্র বাড়লেও সংস্থাটিতে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। ৪ জনের কাজ করতে হচ্ছে একজনকে। বর্তমান জনবলের অর্গানোগ্রামে ৪৪০ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১০০ জন। যদিও সম্প্রতি রাজস্ব কর্মকর্তা–সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে ৩০ জনকে পদায়নের আদেশ হয়েছে। তবে তারা সবাই এখনো যোগ দেননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাস্টম হাউস আইসিডিতে জনবল সংকটের কারণে শুল্কায়নের কাজও একটু ধীরগতিতে হচ্ছে। কারণ সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে কাজ চালানোর কারণে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। বর্তমানে অনুমোদিত জনবলের মাত্র ২০ শতাংশ জনবল দিয়েই চলছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডি। এই পরিস্থিতিতে অন্তত ৩০ শতাংশ জনবল বাড়িয়ে দিয়ে যদি অর্ধেকও করা যায়, তবে সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডিতে কমিশনার পদে একজন এবং অতিরিক্ত কমিশনারের পদে কর্মরত আছেন একজন। এছাড়া চারজন যুগ্ম কমিশনারের স্থলে আছেন ২ জন, প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের একটি পদের একটিই খালি। ১২ জন উপ–কমিশনারের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন, বাকি ১১টি পদই খালি এবং উপ–প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের একটি পদের একটিই খালি। অন্যদিকে একমাত্র প্রোগ্রামার পদটিও খালি রয়েছে। এছাড়া ৩৬ জন সহকারী কমিশনারের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন, বাকি ২৮টি পদই খালি। আবার সহকারী প্রোগ্রামের দুজনের মধ্যে বর্তমানে একটি খালি আছে। অন্যদিকে ৮৮ জন রাজস্ব কর্মকর্তার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৬ জন, বাকি ৬২ টি পদই খালি এবং সহকারী মেনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারের একটি পদের মধ্যে বর্তমানে একটিই খালি। রাসায়নিক পরীক্ষকের একটি পদটিও খালি। এই ভাবে তেজস্ক্রিয় পরীক্ষকের পদটিও খালি পড়ে আছে। এছাড়া ২৯০ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮৪ জন, বাকি ২০৬ পদই খালি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডিতে জনবল সংকটের বিষয়ে আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি লিখেছিলাম। আমাদের চিঠির প্রেক্ষিতে কিছু রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী রাজস্ব কমকর্তাদের পদায়নের আদেশ দিয়েছে এনবিআর। জনবল বাড়ানো না হলেও অন্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বাড়বে। একইসাথে আমাদের কাজেরও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই আমাদের দাবি হচ্ছে, ক্রমান্বয়ে যেন শুন্যপদগুলো পূরণ করা হয়।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার দৈনিক আজাদীকে বলেন, ডিপোর কাজের পরিধি বেড়েছে। ৬৫ ধরনের পণ্য খালাসের শুল্কায়নও কার্যক্রমও চলছে ডিপোতে। ভবিষ্যতে আরো কাজ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে এনবিআরের, এমনটাই শুনেছি। তাই জনবল বাড়ালে সেবার গতিও বাড়বে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডির এডিশনাল কমিশনার মাহবুব হাসান দৈনিক আজাদীকে বলেন, আইসিডি কাস্টমস এখন ২০ শতাংশ জনবল দিয়েই চলছে। বিষয়গুলো এনবিআর জানে। ইতোমধ্যে রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে পদায়ন শুরু হয়েছে। সংকটের কারণে আমাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার আহ্বান জানাল বাংলাদেশ
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬