গ্যাসের সংকট কয়েক দিনের মধ্যে অনেকাংশে কমে আসবে : প্রধানমন্ত্রী

সংসদে আসছে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা

| রবিবার , ১৬ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ

দেশে গ্যাসের সংকট কয়েক দিনের মধ্যে অনেকাংশে কমে আসবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জ্বালানি সংকটে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের জন্য দুঃখপ্রকাশও করেছেন সরকারপ্রধান। গতকাল শনিবার ঢাকা১৭ আসনে এক আলোচনা সভায় কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান বলেন, কিছু দিন ধরে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ, মহানগর, শহর, উপজেলা ও জেলা শহরগুলোতে মানুষ বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছে। আমি জানি দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ গ্যাসের কষ্ট পাচ্ছে। সিএনজি বলেন, এলপিজি বলেন, বিভিন্ন রকম গ্যাসের কষ্ট পাচ্ছে। আমাদের এই মূল্যবান গ্যাসের একটি বড় অংশ আমাদেরকে বিদেশ থেকে আনতে হয়। জাহাজের মাধ্যমে এনে যে স্টোরেজে রাখতে হয়, সেই স্টোরেজের ব্যবস্থা মাত্র দুটি করে গিয়েছে ১৫ বছরের সেই ফ্যাসিবাদ। তাও এমনভাবে করে গিয়েছে, যেন তাদের লোকজন সেই সুবিধা পায়।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করে সরকারপ্রধান বলেন, আজ দুটি ভাসমান জাহাজের একটিতে হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় গ্যাসের এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে কারিগরি ত্রুটি সারানো হয়েছে। আমি আশা করি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুতের জন্য যে কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজের।

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে ১০ বছর মেয়াদি একটি জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনীতিসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ফোকলা করে দিয়ে গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হবে। দেশের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলার ইনশাল্লাহ প্রত্যেকটিতে আমরা ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল তৈরি করব। যেখানে মানুষ তার প্রয়োজনমতো চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎগ্যাসের দাবিতে হারিকেন হাতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুদিন আগে দেখলাম একটি দলের কিছু সদস্য গ্যাসবিদ্যুৎ চেয়ে সামনে হারিকেন নিয়ে বসে আছে। অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে, তারা ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে। এই হচ্ছে তাদের হঠকারিতা। ওইসব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি বাদ দিন। আপনাদের কাছে যদি এমন কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে যা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে পারবে, তবে সংসদে নিয়ে আসুন। আমরা আপনাদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করবো। আর যদি কেবল বিভ্রান্ত করার জন্য এসব বলে থাকেন, তবে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগ্যাস নিতে চালকের সময় নষ্ট,দায় কেন যাত্রীর কাঁধে?
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে এখনো চাহিদার অর্ধেকের কম গ্যাস