গরমে অস্বাভাবিক অস্বস্তি : চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন কখন?

| রবিবার , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

বৈশাখে যখন তাপমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায়, তখন অনেকের কাছে গরম আর শুধু অস্বস্তি নয়, হয়ে ওঠে এক অসহ্য যন্ত্রণা। একই আবহাওয়ায় যেখানে অন্যরা মোটামুটি সহ্য করে চলতে পারেন, সেখানে কেউ কেউ ঘামে ভিজে যান, মাথা ঘোরে, শ্বাসকষ্ট হয় বা দুর্বলতা অনুভব করেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, গরমের অনুভূতির তারতম্য স্বাভাবিক। তবে যদি একই তাপমাত্রায় আপনার অস্বস্তি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি হয়, তাহলে শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যা থাকতে পারে। এসব সমস্যা শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। খবর বিডিনিউজের।

থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে : থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন বেশি নিঃসৃত হলে (হাইপারথাইরয়েডিজম) শরীরের মেটাবলিজম বেড়ে যায়। ফলে শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপ উৎপন্ন করে। এতে গরম অসহ্য লাগে, অতিরিক্ত ঘাম হয়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং ওজন কমতে থাকে। ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে গরমের সময় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ডায়াবেটিস ও স্নায়ুর সমস্যা : ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে স্নায়ু ও ঘামগ্রন্থির কাজে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে শরীর ঠিকমতো ঘাম ঝরিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এতে গরমে দ্রুত ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়ে।

স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন : শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকলে তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে গরমে শরীর সহজে ঠাণ্ডা হয় না। ওজন বেশি থাকলে হাঁটাচলা বা সামান্য পরিশ্রমেও ঘাম বেড়ে যায় এবং দুর্বলতা অনুভূত হয়।

রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) : রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে। ফলে গরমে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি বেশি অনুভূত হয়।

মেনোপজ ও হরমোনের তারতম্য : নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়াতে হট ফ্ল্যাশ হয়। হঠাৎ করে শরীর গরম হয়ে যায়, ঘাম ঝরে এবং অস্বস্তি বাড়ে। গর্ভাবস্থা বা মাসিক চক্রের বিভিন্ন সময়েও হরমোনের ওঠানামায় গরম বেশি লাগতে পারে।

পানিশূন্যতা : শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে ঘাম কম হয় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়। ফলে গরম আরও অসহ্য লাগে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা মানসিক স্বাস্থ্যের কিছু ওষুধ শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে গরম বেশি অনুভূত হয়।

যা করা উচিত : অতিরিক্ত গরম অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।। থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। এছাড়া আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন আছে। যেমনপর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে। রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। বাইরে রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। ভিটামিন সি এবং ইসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া উপকারী।

ডা. আফসানা হক নয়নের পরামর্শ, গরমে অস্বাভাবিক অস্বস্তি হলে নিজেকে উপেক্ষা করবেন না। শরীরের সংকেত বুঝে চিকিৎসকের কাছে যান। সচেতনতাই পারে গরমের ঝুঁকি কমাতে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীর হাতধরেই নির্মিত হবে আগামীর স্বনির্ভর বাংলাদেশ
পরবর্তী নিবন্ধজাতীয় নারীশক্তির ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি