খাগড়াছড়িতে সীমান্তে শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
গতকাল মঙ্গলবার জেলার দীঘিনালার বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উত্তর লক্কাছড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন পিলার ২২৭৮–এর কাছে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাবুছড়া ব্যাটালিয়নের (৭বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইশতিয়াক আহম্মেদ ইবনে রিয়াজ। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৫৪ ও ১৭৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট পীযূষ কুমার। বৈঠকে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কোম্পানি কমান্ডার ও অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্তে শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার এবং বিরাজমান সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানায় বিজিবি। কোনো দেশের নাগরিক সীমান্ত অতিক্রম করলে তাকে আটক করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি অবৈধ পুশইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিএসএফকে সতর্ক করে বিজিবি। সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি প্রচলিত নিয়ম ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাবুছড়া ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্তের প্রায় এক কিলোমিটার অপদখলীয় ভূমি পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও তুলে ধরে বিজিবি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ছাড়াই বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে এসব ভূমির অধিকাংশ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তের ২২৭৫ নম্বর পিলারের ৫–এস অংশ উন্মুক্ত করা এবং বিএসএফের নির্মিত কাঁটাতারের বেড়া অপসারণের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। অবশিষ্ট কাঁটাতারের বেড়া অপসারণের বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্ষা মৌসুমে শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে চলমান শুষ্ক মৌসুমে অবশিষ্ট অংশ অপসারণের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে
এছাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে রাস্তা বা স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়টি উত্থাপন করে বিজিবি। এ ধরনের নির্মাণকাজ সীমান্তসংক্রান্ত প্রচলিত বিধিবিধানের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়। জবাবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়া এবং উল্লিখিত রাস্তা ব্যবহার না করার বিষয়ে আশ্বস্ত করে বিএসএফ।
সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্পট মিটিংয়ের মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে গতকাল দুপুর ১২টায় শান্তিপূর্ণভাবে বৈঠকটি শেষ হয়।











