কোরবানির চামড়া: অব্যবস্থাপনা ও হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

মুহাম্মদ এনামুল হক মিঠু | মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ at ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

ঈদুল আজহা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ত্যাগ, মানবতা ও সহমর্মিতার প্রতীক। প্রতি বছর কোরবানির পশুর চামড়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলেও দুঃখজনকভাবে তা এখন অব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট ও অবহেলার শিকার। একসময় চামড়া শিল্প ছিল দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত। কিন্তু পরিকল্পনার অভাব, ট্যানারি শিল্পের সংকট, বাজারে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে এ খাত আজ গভীর সংকটে। সরকার মূল্য নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও এতিমখানাগুলো ন্যায্যমূল্য পায় না। ফলে অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায় অথবা নামমাত্র দামে বিক্রি করতে হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো, যাদের একটি বড় অংশের ব্যয় নির্বাহ হয় কোরবানির চামড়ার অর্থ দিয়ে। সংরক্ষণ সম্পর্কে অজ্ঞতা, লবণের সংকট ও পরিবহন সমস্যাও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ। এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন ইউনিয়ন পর্যায়ে সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, সরাসরি চামড়া ক্রয় ব্যবস্থা চালু, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ট্যানারি শিল্প আধুনিকায়ন এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। কোরবানির শিক্ষা শুধু ত্যাগে নয়, সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মধ্যেও নিহিত। জাতীয় এই সম্পদকে অবহেলা নয়, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করাই এখন সময়ের দাবি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিদায় হজের ভাষণ এবং আমাদের করণীয়
পরবর্তী নিবন্ধযত্রতত্র কোরবানীর বর্জ্য ফেলবেন না