পবিত্র কুরআনের আলোকে কুরবানির গুরুত্ব: মানব ইতিহাসের সর্ব প্রথম কুরবানী হযরত আদম আলাইহিস সালাম’র দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল’র কুরবানী, হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর যুগ থেকেই কুরবানীর সূচনা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে কুরআনুল করীমে এরশাদ হয়েছে, “ আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত আপনি তাদেরকে যথাযথভাবে শোনান যখন তারা উভয়ে কুরবানী করেছিল তখন একজনের কুরবানী কবুল হলো এবং অন্যজনের কবুল হলো না। সে বললো আমি তোমাকে হত্যা করবই, অপরজন বলল অবশ্যই আল্লাহ তা’য়ালা মুত্তাকীদের কুরবানী কবুল করে থাকেন।” (সূরা–মা–ইদাহ, ৫,২৭)
মহাগ্রন্থ আলকুরআনুল করীমে আরো এরশাদ হয়েছে, “আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানীর বিধান দিয়েছি। তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন সে গুলোর উপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ।” (সূরা: হজ্ব: ২২: ৩৪)
মহান আল্লাহ পাক পবিত্র ধর্ম ইসলামের অনুসারী উম্মতে মোহাম্মদীর উপর কুরবানীর বিধান ওয়াজিব করে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, “সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন।” (সূরা: কাউসার, ১০৮:২)
কুরবানী না করে এর বিনিময় মূল্য ইত্যাদি দেওয়া যাবেনা। (তাফসীরে নূরুল ইরফান, কৃত: হাকীমুল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী)
মাংস ভক্ষণ ও পশু যবেহ করার মাধ্যমে রক্তপাত করার নাম কুরবানী নয়। বরং আল্লাহর রাস্তায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার মানসিকতা লালন করা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্ত দৃঢ় প্রত্যয় ও দীপ্ত শপথে ইসলামের বিধানের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্য প্রদর্শন করাই কুরবানীর মূল শিক্ষা। আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, “আল্লাহর নিকট পৌছায় না এর গোশত ও রক্ত, পৌঁছায় তোমাদের তাক্বওয়া।” (সূরা: হাজ্জ ২২:৩৭)
লৌকিকতা ও পশুক্রয়ের প্রতিযোগিতা নয় কিংবা সমাজে বিত্ত বৈভব ও ধন সম্পদের প্রাচুর্যত্য প্রদর্শনের জন্য নয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে কুরবানী করতে হবে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, “আপনি বলুন, আমার নামায, আমার কুরবানী সমূহ, আমার জীবন এবং আমার মরণ সবই আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিপালক সমগ্র বিশ্ব জাহানের।” (সূরা: আনআম: ১৬৩)
হাদীস শরীফের আলোকে কুরবানীর ফযীলত:
হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ কুরবানী জিনিসটা কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন এ হল তোমাদের পিতা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের সুন্নাত। সাহাবায়ে কেরাম পুনরায় নিবেদন করলেন এতে আমাদের জন্য কী কল্যাণ নিহিত রয়েছে? তিনি বললেন, এর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে নেকী রয়েছে। তোমরা মোটা তাজা পশু যবেহ কর। কেননা এগুলো পুলসেরাতে তোমাদের বাহন হবে। (ইবনে মাযাহ)
হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, “হযরত আবু হুরায়রা (র.) হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করেনা সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে। (ইবনে মাযাহ)
কুরবানী যাদের উপর ওয়াজিব:
মালিকে নিসাব অর্থাৎ যতটুকু সম্পদের মালিক হলে সাদক্বাহ–ই ফিতর ওয়াজিব হয়। ততটুকু সম্পদের মালিক হলেই তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। অর্থাৎ ঋন ব্যতীত যার নিকট মৌলিক জিনিষপত্র তথা প্রয়োজনীয় খরচ ছাড়া সাড়ে সাতভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা থাকবে অথবা সে পরিমান অর্থ থাকবে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। (আলমগীরি ৫ম খন্ড)
কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী:
মুসলমান হওয়া। অমুসলিমের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।
মুক্বীম হওয়া। মুসাফিরের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। মুসাফির কুরবানী করলে তা নফল কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। (বাহারে শরীয়ত)
হজ্ব পালনকারী যদি মুসাফির হয় তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়, মুক্বীম হলে ওয়াজিব। যেমন মক্কায় অবস্থানকারী হলে তখন সে মুসাফির নয় তার উপর ওয়াজিব হবে। (দুররে মোখতার, রদ্দুল মুহতার, বাহারে শরীয়ত)
গরু কুরবানীতে কাউকে শরীক করলে মাংস ওজন করে বণ্টন করাই বাঞ্ছনীয়, অনুমান করে নয়। হতে পারে কেউ বেশী বা কেউ কম পাবে। তা নাজায়েজ। (বাহারে শরীয়ত)
কুরবানীর মেয়াদকাল: কুরবানীর সময় কাল ১০ যিলহজ্ব সুবহে সাদিকের পর হতে ১২ যিলহজ্বের সুর্যাস্ত পর্যন্ত। অর্থাৎ তিনদিন দুই রাত্রি ওই দিন গুলোকে “আইয়্যামে নাহর” বা কুরবানীর দিবস বলা হয়। ১১ জিলহজ্ব হতে ১৩ যিলহজ্ব পর্যন্ত তিনদিনকে আইয়্যামে তাশরীক বলা হয়। (বাহারে শরীয়ত)
ঈদুল আযহার নামাযের পূর্বে কুরবানী করা দুরস্ত নয়। ঈদের নামায ও খোতবার পর কুরবানী করা উত্তম। (বাহারে শরীয়ত)
কুরবানীর বিধান:
ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এ তিন শ্রেণির পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরীক হতে পারবেনা। একজনের জন্য একটি কুরবানী করতে হবে। পক্ষান্তরে গরু, মহিষ ও উট এই তিন প্রকার পশুর প্রত্যেকটিতে সাত ব্যক্তি পর্যন্ত শরীক হতে পারবে। (আলমগীরি ৫ম খন্ড)
জন্মগতভাবে যে পশুর শিং নেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েজ হবে। যে পশুর শিং মূলসহ উপড়ে গেছে এ ধরনের পশু দ্বারা কুরবানী জায়েজ নয়। (রদ্দুল মুহতার)
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েজ। বরং সওয়াবের কাজ। এতে মৃত ব্যক্তির রূহে ছওয়াব পৌছে যা উপকারী ও কল্যাণকর। (বাহারে শরীয়ত)
কুরবানীর পশুর হাড় বা অন্য কোন কিছু বিক্রি করলে তার মূল্য সাদক্বাহ করে দেওয়া ওয়াজিব। (আলমগীরি)
কুরবানীর মাংস নিজে খাবে। আত্মীয়–স্বজনকে দিবে, ও ফকীর মিসকীনকে দান করবে। তবে মাংস তিন ভাগ করা উত্তম। একভাগ নিজ পরিবারের জন্য, একভাগ আত্মীয়–স্বজনের জন্য ও একভাগ ফকীর মিসকীনদের জন্য। (বাহারে শরীয়ত, রদ্দুল মুহতার)
কুরবানকারী ব্যক্তির জন্য কুরবানীর মাংস বিক্রি করা জায়েজ নয়। যাবেহকারীর পারিশ্রমিক বা মাংস প্রস্তুতকারীদের পারিশ্রমিক হিসেবে কুরবানীর মাংস বা চামড়া দেওয়া জায়েজ নেই। (বাহারে শরীয়ত)
চামড়ার বিধান: কুরবানীর চামড়া দান করে দিবে, ইচ্ছা করলে নিজেও ব্যবহার করতে পারবে, বিক্রি করলে তার মূল্য গরীব মিসকীনকে দান করে দিতে হবে। (বাহারে শরীয়ত, রদ্দুল মুহতার)
দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের এতিম মিসকীন শিক্ষার্থীদের সাহায্যার্থে লিল্লাহ বোডিং–এ দান করা উত্তম। কুরবানীর চামড়ার মূল্য দ্বারা মসজিদ, মাদরাসার, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও শিক্ষকদের বেতন দেওয়া জায়েজ নেই। (আলমগীরি) কুরবানীর পশুর রশিও সাদক্বাহ করা মুস্তাহাব। (বাহারে শরীয়ত)
তাকবীরে তাশরিক বলা ওয়াজিব:
হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, তাবিয়ী হযরত আসওয়াদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আরফাত দিন (৯ জিলহজ্ব) ফজরের নামায থেকে ১৩ জিলহজ্বের আসর পর্যন্ত তাকবীর বলতেন “আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ। [ইমাম ইবন আবি শায়বা, আল মুসান্নাফ হাদীস ৫৬৩৩, সহীহুল বিহারী, খন্ড ৫ম, কৃত: আল্লামা যুফরুদ্দিন বিহারী (র.)]
মাসআলা: জিলহজ্বের ৯ তারিখের ফজর থেকে ১৩ তারিখের আসর পর্যন্ত ফরজ নামাযের পর একবার তাকবীর তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব। নফল, সুন্নাত ও বিতরের পর তাকবীর তাশরিক ওয়াজিব নয়। জুমার পর তাকবীর তাশরিক ওয়াজিব। ঈদুল আযহার নামাযের পরেও তাকবীর তাশরিক পাঠ করবে। [ বাহারে শরীয়ত, খন্ড ৪র্থ, পৃ: ১৪৭,১৪৮]
ঈদুল আযহার নামায:
ঈদুল আযহার দু’রাকাত নামায ওয়াজিব। নামাযের পর খতীব সাহেব দুটি খোতবা পাঠ করা সুন্নাত। ঈদুল আযহার নামাযে আজান ও ইকামত নেই। ঈদুল আযহার নামায তাড়াতাড়ি পড়া মুস্তাহাব। [আলমগীরি, দুররুল মোখতার, বাহারে শরীয়ত ৪র্থ খন্ড, পৃ: ১৪২,১৪৩]
কুরবানীর পশু জবেহ করার বিধান:
পশু জবেহের নিয়ম জানা থাকলে নিজ হাতে জবেহ করা সুন্নাত। অন্যজন দ্বারা জবেহ করলে সামনে উপস্থিত থাকা উত্তম। জবেহ করার সময় পশুকে ক্বিবলা মুখী করে শোয়াবে। অতঃপর “বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবর” বলে জবেহ করা, জবেহকারীও ক্বিবলামুখী হওয়া সুন্নাত। ছুরি ভাল ভাবে ধার দিবে, দ্রুত জবেহ করে নিবে চারটি রগ যেন কাটা যায়, উত্তম হলো জবেহের পর বাঁধন খুলে দেওয়া। [বাহারে শরীয়ত, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ: ১১৪১]
ইসলামে আক্বীকার বিধান:
ইমাম আবু হানিফা (র.)’র মতে আক্বীকা করা সুন্নাত। সন্তান জন্মের শুকরিয়া স্বরূপ যে পশু জবেহ করা হয় তাকে আকীকা বলে। ছেলের আকীকায় দুটি ছাগল, মেয়ের আকীকায় একটি ছাগল, কুরবানীর সাথে আক্বীকাও সম্পৃক্ত করা যাবে। গরু, মহিষ, উট, হলে ছেলের জন্য সাত অংশের দু’অংশ। মেয়ের জন্য এক অংশ আক্বীকা দেয়া যাবে। আক্বীকার মাংস পিতা–মাতা, দাদা–দাদি, নানা–নানী সকলে খাওয়া জায়েজ। আক্বীকার দাওয়াতে অংশ গ্রহণে নিষেধ নেই। আক্বীকার মাংসের এক তৃতীয়াংশ ফকীর মিসকীনকে দান করা উত্তম। শিশু সন্তানকে বিভিন্ন প্রকার রোগব্যাধি বালামুসিবত ইত্যাদি থেকে নিরাপদ রাখতে আকীকা একটি উত্তম আমল। [ আহকামে শরীয়ত, ২য় খন্ড, পৃ: ১৯০, কৃত ইমাম আহমদ রেযা (র.), আনোয়ারে শরীয়ত, কৃত: আল্লামা মুফতি জালাল উদ্দিন আমজাদী (র.)]
হে আল্লাহ আমাদেরকে আপনার ও আপনার প্রিয় হাবীবের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কুরবানি করার তাওফিক নসীব করুন। আমীন।
লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা–এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রি); খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।
[ইসলাম সম্পর্কিত পাঠকের প্রশ্নাবলি ও নানা জিজ্ঞাসার দিচ্ছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি। আগ্রহীদের বিভাগের নাম উল্লেখ করে নিচের ইমেলে প্রশ্ন পাঠাতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
Email : azadieditorial@gmail.com
মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম
আনন্দ বাজার, বন্দর, চট্টগ্রাম।
প্রশ্ন: মদীনা শরীফে অবস্থিত জান্নাতুল বাকী কবরস্থানের ফযীলত সম্পর্কে জানালে কৃতার্থ হব।
উত্তর: জান্নাতুল বাকী মদীনা মনোওয়ার প্রাচীনতম প্রসিদ্ধ বরকতময় কবরস্থান। মসজিদ নবভী শরীফের দক্ষিণ পূর্ব দিকে এ কবরস্থান অবস্থিত। লাখো লাখো মুসলমানরা এ কবরস্থানে যিয়ারতের সৌভাগ্য অর্জন করেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রিয় সাহাবাদের দাফনের জন্য বিভিন্ন জায়গা অনুসন্ধান ও পরিদর্শনের পর বলেছিলেন আমি এ জায়গা (বাকী) নির্বাচনের জন্য আদিষ্ট হয়েছি। (মুস্তাদরিক, খন্ড: ৪, হাদীস: ৪৯১৯)
হযরত আমীরে মুয়াবিয়া (রা.)’র শাষনামলে এর প্রথম সম্প্রসারন কার্য সূচনা হয়। বর্তমানে এ কবরস্থানের পরিধি ৫৬০০০ ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মিটার। এটি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ কবরস্থান। এখানে প্রায় ১০,০০০ দশ হাজার সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বায়ত, অসংখ্য তাবেঈন, তবে তাবেঈন, আউলিয়ায়ে কেরাম শায়িত আছেন। বিশেষত হযরত সৈয়্যদানা আব্বাস (রা.), আমিরুল মু’মিনীন হযরত উসমান জিন্নুরাইন (রা.), হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), হযরত সৈয়্যদানা ইমাম হাসান (রা.), সৈয়্যদানা আবু হুরায়রা (রা.), হযরত হাসসান বিন সাবিত (রা.), সৈয়্যাদা ফাতেমাতুজ জাহরা (রা.), উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.), নবীজির কলিজার টুকরা হযরত সৈয়্যদানা ইবরাহীম (রা.) প্রমূখ। এ কবরস্থানে শায়িত আছেন। (ওয়াফাউল ওয়াফা, খন্ড:৩, পৃ: ১৪১১) নবীজি জান্নাতুল বাকীতে কবরস্থদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করেছেন। (মুসলিম শরীফ, পৃ: ৩৭৬, হাদীস: ২২৫৫)












