২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে তা ২৫ হাজার টাকা বা প্রায় ৭.১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭–২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য এ সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা–মাতা বা আইনানুগ অভিভাবকদের ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আগামী ৫ বছরের জন্য প্রগতিশীল করকাঠামোর প্রস্তাব করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, করদাতাগণ যাতে, ভবিষ্যতে মধ্যমেয়াদে তাদেরকে কী হারে কর পরিশোধ করতে হবে তা সঠিকভাবে পূর্বানুমান করতে পারে, সে লক্ষ্যে ব্যক্তিকরদাতাদের জন্য আগামী ৫ বছরের আয়কর হার প্রস্তাব করছি।
সারা বছর আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে
বাসস জানায় : আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন করদাতারা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন দাখিল করলে কর ছাড়ের সুবিধা পাবেন, আর দেরিতে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। গতকাল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি প্রস্তাব করেন, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা–যেটি কম), সেই পরিমাণ কর ছাড় পাবেন।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) রিটার্ন দাখিল করলে কোনো অতিরিক্ত কর ছাড় বা জরিমানা থাকবে না। এ সময়ে করদাতাদের শুধু নির্ধারিত কর পরিশোধ করলেই হবে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা–যেটি বেশি), সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা্তযেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।








